“ঘরছাড়ারা ফিরছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে”-দাবি করলেন এডিজি সুপ্রতিম সরকার

সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করলেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার। সোমবার ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কথা জানান। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, হিংসার জেরে ঘরছাড়া হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯টি পরিবার নিজেদের বাড়িতে ফিরে এসেছেন এবং তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে আছেন। বাকি পরিবারগুলিও খুব শীঘ্রই ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে শুক্রবার মুর্শিদাবাদের সুতি ও সামশেরগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। উত্তেজিত জনতা গাড়ি, বাড়ি ও দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এই পরিস্থিতিতে শনিবারই সামশেরগঞ্জে ছুটে যান রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। এরপর রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এডিজি সুপ্রতিম সরকার।
এদিন সামশেরগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এডিজি সুপ্রতিম সরকার। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। বিএসএফের সঙ্গে রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে টহল দিচ্ছে। গোটা এলাকা এখন শান্ত। দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। আমরা আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
হিংসার ভয়ে সামশেরগঞ্জ ছেড়ে বহু মানুষ মালদায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এই প্রসঙ্গে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ জানান, ‘ঘরছাড়াদের মধ্যে ১৯টি পরিবার গতকাল নিজেদের বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। যারা ফিরে এসেছেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাকি যারা এখনও ফেরেননি, তাঁরাও খুব শীঘ্রই ফিরবেন।’
বর্তমানে সামশেরগঞ্জে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে বিএসএফ জওয়ানরা। এডিজি সুপ্রতিম সরকারের কথায়, ‘প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকরা এলাকায় রয়েছেন এবং নিয়মিত নাইট পেট্রোলিং চলছে।’
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সামশেরগঞ্জে এক বাবা ও ছেলের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তাঁদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে রবিবার ডিজি জাভেদ শামিম কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘যারা এই ঘৃণ্য কাজ করেছে, তারা কেউই রেহাই পাবে না। অপরাধীদের খুঁজে বের করতে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই যাওয়া হবে, প্রয়োজনে পাতাল থেকেও তাদের টেনে বের করা হবে। হিংসা ছড়ানো কাউকে কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’
এডিজি দক্ষিণবঙ্গের এই বক্তব্য এবং ঘরছাড়া পরিবারগুলির ফিরে আসার খবরে সামশেরগঞ্জের সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি বোধ করছেন। তবে, পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিস্থিতি কবে ফিরবে, সেদিকেই এখন সকলের নজর।