‘চাঁদনি বার’ হিট, আর পরিচালক মধুর ভান্ডারকর ঘুমাচ্ছেন! মহেশ ভাটের ধমকেই ভাঙল স্বপ্ন

বলিউডের একেবারে শুরুর দিকের কথা। তখন মধুর ভান্ডারকর সবেমাত্র দ্বিতীয় ছবি ‘চাঁদনি বার’ মুক্তি দিয়েছেন। তব্বু এবং অতুল কুলকার্নির অনবদ্য অভিনয়ে তৈরি এই সিনেমাটি মুক্তির পরই সুপারহিট। প্রেক্ষাগৃহের বাইরে হাউসফুলের জন্য দর্শকদের হুড়োহুড়ি। আর ছবির পরিচালক? তিনি দিব্যি নিজের ছোট্ট এক কামরার ফ্ল্যাটে, ফ্যানের নীচে মাদুর পেতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন!

ঠিক দুপুর দুটো নাগাদ বেজে উঠল টেলিফোন। ওপারে স্বয়ং মহেশ ভাট! প্রথম প্রশ্ন, “এখন তুই কোথায় রে?” মধুর কোনোমতে ঘুমজড়ানো স্বরে বললেন, “বাড়িতে আছি স্যার…” ব্যস! এরপরই যেন নেমে এল ঘূর্ণিঝড়— “তুই কি পাগল? তোর ছবি সুপারহিট! থিয়েটারে তোর ছবি নিয়ে এত হইচই পড়ে গিয়েছে আর তুই পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিস? ওঠ, এক্ষুনি দৌড় লাগা! এরকম দিন জীবনে বারবার আসে না!”

মহেশ ভাটের তীব্র ধমকে নিমেষে ঘুম ছুটে গেল মধুরের। সঙ্গে সঙ্গেই ছুটলেন শহরের বিভিন্ন সিনেমা হলে। সর্বত্রই একই দৃশ্য— হাউসফুল, দর্শক উল্লাসে মত্ত। তবে আশ্চর্যের বিষয়, তখনও পর্যন্ত তাঁকে কেউ চেনে না। কারণ তিনি তখন বলিউডের ‘নো-বডি’। তবুও সেই অচেনা মুখগুলোর হাসি দেখে তাঁর বুকের ভেতর এক অনির্বচনীয় তৃপ্তি অনুভব হল। একটি সিনেমা যেন রাতারাতি বদলে দিল তাঁর কেরিয়ার, তাঁর পরিচিতি। তৎক্ষণাৎ ফোন ঘোরালেন মহেশ ভাটকে— “স্যার, ধন্যবাদ! আপনি না বললে এই ম্যাজিকটা হয়তো মিস করতাম!”

তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। মধুর আরও জানান, প্রথম দিনের দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে তিনি ধরে নিয়েছিলেন সিনেমাটি হিট হবে। কিন্তু পরের দিন একটি হলে গিয়ে দর্শকদের নীরব মুখ দেখে সামান্য সন্দেহ জেগেছিল তাঁর মনে। “হিট তো হল?”, নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি। ঠিক তখনই এল সেই অভাবনীয় ফোন। তব্বু ফোন করে মধুরকে বলেছিলেন, “স্যার, দেখুন আপনার ছবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে! সব ডিস্ট্রিবিউটরের দল আমাকে ফোন করছে!”

সেই ‘চাঁদনি বার’-এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মধুর ভান্ডারকরকে। ‘পেজ ৩’, ‘ফ্যাশন’, ‘ট্র্যাফিক সিগন্যাল’-এর মতো একের পর এক সাহসী এবং বাস্তবধর্মী গল্প উপহার দিয়েছেন তিনি বলিউডকে। পেয়েছেন এক নির্ভীক গল্পকারের পরিচিতি। তবে এই ঝলমলে সাফল্যের যাত্রার শুরুটা যে এক দুপুরের ঘুম এবং মহেশ ভাটের ঝাঁঝালো ধমকের মধ্যে দিয়ে হয়েছিল, তা হয়তো অনেকেরই অজানা।