সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষা দফতর

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষা দফতর। ২০২৩ সালে সারপ্লাস ট্রান্সফারের অধীনে চালু হওয়া বদলি প্রক্রিয়া আপাতত প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই বদলি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল, এবং শিক্ষা দফতর নতুন করে আইনি জটিলতায় জড়াতে চায় না। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, এই নির্দেশের অধীনে যে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা বদলি হয়েছেন, তাদের পুরনো স্কুলে ফিরিয়ে আনা হবে।

স্কুলগুলিতে ছাত্র এবং শিক্ষকের সংখ্যার অনুপাত ঠিক রাখার জন্য মূলত এই প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল। এর অধীনে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক মিলিয়ে ৬০৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বদলি করা হয়েছে। তবে এই বদলি নিয়ে শিক্ষকমহলের একাংশ অভিযোগ তোলেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক বদলির নামে দূরবর্তী স্থানে বদলি করা হয়েছে। এমনকি অনেককে চিকিৎসাজনিত কারণেও বদলি করা হয়েছে।

শিক্ষক সংগঠনের দাবি, বহু স্কুলে শিক্ষকের অভাব থাকা সত্ত্বেও সরকার নিয়োগের ব্যবস্থা না করে শিক্ষকদের দূরে বদলি করছে। যেখানে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বদলির নিয়ম থাকলেও, ১৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে বদলি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বহু বছর ধরে দূরে চাকরি করার পর উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে বাড়ির কাছাকাছি আসা শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও এই প্রক্রিয়ার অধীনে বদলি করা হয়েছে। আরও অভিযোগ, ১২০ জনকে মেডিক্যাল কারণ দেখিয়ে বদলি করা হয়েছে, যা তারা আগে জানতেন না। এর ফলে বদলি নিয়ে বিভ্রান্তি ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে, ২৬ হাজার শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীর চাকরি যাওয়ার পর সরকার আর নতুন করে জটিলতায় জড়াতে চায় না।

প্রধান শিক্ষকদের সংগঠনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক স্কুলেই শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাব রয়েছে। বদলি বাতিল হলে স্কুলগুলির সমস্যা আরও বাড়বে। তবে শিক্ষকদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে খুশি। একটি শিক্ষক সংগঠনের মতে, তারা প্রথম থেকেই এই বদলির বিরোধিতা করে আসছেন। দূরে বদলি হওয়া শিক্ষকদের অনেক অসুবিধা হচ্ছিল, এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে সমস্যার সমাধান হবে।