সত্যিই ৩য় স্বামী রোশনের থেকে মাসে ৭ লাখ খোরপোশ নিচ্ছেন শ্রাবন্তী? আসল সত্যি জানালেন আইনজীবী

২০১৯ সালে রোশন সিংয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। এটি ছিল তাঁর তৃতীয় বিয়ে। বছর না ঘুরতেই সেই সম্পর্কে চিড় ধরে। আলাদা থাকতে শুরু করেন রোশন ও শ্রাবন্তী। এরপর জল অনেক দূর গড়ায়। রোশন প্রকাশ্যে শ্রাবন্তীর সঙ্গে সংসার করতে চাওয়ার কথা জানালেও, ২০২১ সালের জুন মাসে ‘বৈবাহিক অধিকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ চেয়ে মামলা দায়ের করেন তিনি। যদিও শ্রাবন্তী সেই পথে হাঁটেননি। বরং আলিপুর আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন অভিনেত্রী।
এরপরই শোনা যায়, জিম প্রশিক্ষক রোশনের কাছে মাসে ৭ লক্ষ টাকা খোরপোশ চেয়েছেন শ্রাবন্তী। অভিনেত্রীর তৃতীয় স্বামী রোশনের আইনজীবী ২০২৩ সালে এই তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। যদিও আদালত সেই বিষয়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়।
অবশেষে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আইনিভাবে আলাদা হয়ে গিয়েছেন শ্রাবন্তী ও রোশন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সেই মোটা অঙ্কের খোরপোশের টাকা পেলেন অভিনেত্রী? রোশনের থেকে কি মাসে ৭ লক্ষ টাকাই নিচ্ছেন শ্রাবন্তী?
এই খোরপোশ নেওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন শ্রাবন্তীর আইনজীবী শ্যামল কুমার দে। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ‘মিউচুয়াল ডিভোর্স হয়েছে। কোনও পক্ষেই খোরপোশ লেনদেন হয়নি। যা রটেছে তা সঠিক নয়।’
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন শ্রাবন্তী। কাজের থেকেও তাঁর বিয়ে এবং বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে চর্চা বেশি দেখা যায়। ২০০৩ সালে ‘মায়ার বাঁধন’ ছবির মাধ্যমে টলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন শ্রাবন্তী। সেই বছরই, আঠারো বছর বয়স হওয়ার আগেই পরিচালক রাজীব কুমার বিশ্বাসকে বিয়ে করেন তিনি। এই বিয়ে থেকে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে, ঝিনুক ওরফে অভিমন্যু। ২০১৬ সালে রাজীবের সঙ্গে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
এরপর শ্রাবন্তীর দ্বিতীয় বিয়ে হয় মডেল কৃষাণ ব্রজের সঙ্গে। সেই সম্পর্কও এক বছরের বেশি টেকেনি। ২০২০ সালে রোশন সিংয়ের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী। তবে সেই সম্পর্কও পরিণতি পেল বিচ্ছেদে। বর্তমানে শ্রাবন্তী তাঁর মা-বাবার সঙ্গেই থাকছেন এবং নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর একাধিক ছবি মুক্তি পেয়েছে। রোশনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বেশ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে, তবে অভিনেত্রী ব্যক্তিগত জীবনকে আপাতত লাইমলাইটের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।