‘মেয়ে জন্মেছে কেন?’ স্ক্রু-ড্রাইভার ও হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রীকে আঘাত স্বামীর! অতঃপর…

কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার “অপরাধে” উত্তরাখণ্ডে এক মহিলাকে তাঁর স্বামীর হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অভিযোগ, স্বামী শুধু হাতে মারধর করেননি, হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন এবং স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে স্ত্রীর মুখে গর্ত করে দেন। দীর্ঘ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর এবং প্রথমে পুলিশের গড়িমসির পর, অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী ও জাতীয় মহিলা কমিশনে অভিযোগ জানানোর পর অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনাটি গত মাসে উত্তরাখণ্ডে ঘটলেও, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। নির্যাতিতা মহিলার অভিযোগ, কন্যা সন্তান হওয়ার কারণেই তাঁর স্বামী তাঁর উপর এমন নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মহিলার মুখ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। তাঁর অভিযোগ, স্বামী চুলের মুঠি ধরে মারধর করে এবং মুখে ও হাতে স্ক্রু-ড্রাইভার ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে।
নির্যাতিতা জানান, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁর উপর অত্যাচার শুরু হয়। তাঁর স্বামী ছাড়াও শ্বশুর-শাশুড়িও তাঁকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন। কয়েক মাস আগে তাঁদের একটি কন্যা সন্তান হয়। এর পরই অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এতটাই মারধর করা হয় যে, তিনি দীর্ঘ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
মহিলার আরও অভিযোগ, ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ প্রথমে তাঁর অভিযোগ দায়ের করতে চায়নি। পরে তিনি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পোর্টালে অভিযোগ জানান এবং জাতীয় মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হন। তাঁর দাবি, বিবাহ বিচ্ছেদে যাতে ক্ষতিপূরণ দিতে না হয়, সেই কারণে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ নথি দেওয়ার অজুহাতে তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে দরজা বন্ধ করে ব্যাপক মারধর ও নির্যাতন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুনতে পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।
অবশেষে গত ৩০ মার্চ স্থানীয় থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং মহিলার মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। এরপরই পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। এই পাশবিক ঘটনাটি কন্যা সন্তানের প্রতি সমাজের এক ঘৃণ্য মানসিকতাকে ফের একবার সামনে নিয়ে এল এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলল।