“বিশ্বের একমাত্র একটি দেশকে পাসপোর্ট দেবে না বাংলাদেশ”-নিয়মে বড় বদল ইউনূস সরকারের

গাজা উপত্যকায় ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদে উত্তাল বাংলাদেশ। শনিবার, দেশটির রাজধানী ঢাকায় ‘মার্চ ফর গাজা’ নামক এক বিশাল সমাবেশে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সোহরাওয়ার্দী পার্কে সমবেত জনতা বাংলাদেশ ও প্যালেস্তাইনের পতাকা উত্তোলন করে “ফ্রি প্যালেস্তাইন”, “ইজরায়েলি দখলদারিত্ব বন্ধ করুন” এবং “ইজরায়েলি পণ্য বর্জন করুন” স্লোগানে আকাশ মুখরিত করে তোলে। বিক্ষোভকারীরা ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্য ও প্রতিষ্ঠান বয়কটেরও শপথ নেন।
এই ব্যাপক জনরোষের মুখে নতি স্বীকার করে বাংলাদেশ সরকার তাদের নাগরিকদের দেওয়া পাসপোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। নতুন জারি করা পাসপোর্টগুলিতে একটি বিশেষ লাইন যুক্ত করা হয়েছে – “THIS PASSPORT IS VALID FOR ALL COUNTRIES OF THE WORLD EXCEPT ISRAEL।” যার অর্থ “এই পাসপোর্টটি ইজরায়েল ছাড়া বিশ্বের সকল দেশের জন্য বৈধ।”
রবিবার ঢাকার সরকারি কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। গাজা উপত্যকায় ইজরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান জনমতকে সম্মান জানিয়ে এবং ইহুদি রাষ্ট্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট এমন একটি নথি যার মাধ্যমে কোনও দেশের বৈধ নাগরিক অন্য দেশে ভ্রমণ করার অনুমতি পান।
উল্লেখ্য, এর আগে পুরনো বাংলাদেশি পাসপোর্টেও একই বাক্য (“এই পাসপোর্টটি ইজরায়েল ছাড়া বিশ্বের সকল দেশের জন্য বৈধ”) লেখা থাকত। তবে, ২০২১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নথির আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার যুক্তিতে এটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনূস খানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সেই পুরনো অবস্থানেই ফিরে গেল।
সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাসপোর্ট ও অভিবাসন বিভাগ ইতিমধ্যেই বিদেশ ভ্রমণকারী নাগরিকদের সরকারি ভ্রমণ পারমিটে এই বাক্যটি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ জারি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুরক্ষা পরিষেবা বিভাগের উপ-সচিব নীলিমা আফরোজ সংবাদ সংস্থাটিকে জানান, “আমরা ৭ এপ্রিল এই নির্দেশ জারি করেছি।” তবে, গাজায় ইজরায়েলি কার্যকলাপের নিন্দা জানিয়ে রাজধানীতে বিশাল বিক্ষোভের পরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ আয়োজিত এই সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেলিব্রিটি, শিল্পী, কবি এবং জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা অংশগ্রহণ করেন। তারা ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্যালেস্তাইনের বেসামরিক নাগরিকদের উপর ‘গণহত্যা’র জন্য দায়ী অন্যান্যদের বিচারের আওতায় আনার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৭ কোটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশের ইজরায়েলের সঙ্গে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন প্যালেস্তাইনকে সমর্থন করে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং পাসপোর্ট সংক্রান্ত এই পরিবর্তন সেই নীতিরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।