“বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক ঢুকিয়ে….!”-মুর্শিদাবাদ ঠান্ডা করে দেওয়ার হুঙ্কার BJP-র অর্জুনের

ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জেরে সৃষ্ট উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাইকোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাত থেকে মুর্শিদাবাদের তিনটি মহকুমায় টহল শুরু করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। জঙ্গিপুর, নবদ্বীপনগর ও সামগ্রামপুর মহকুমায় ফ্রন্টিয়ার গার্ড বাহিনীর জওয়ানরা বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্ট বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। রাজ্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ ও বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিএসএফ কি হাতে চুড়ি পরে আছে? লাঠি নিয়ে পাথর নামাচ্ছে?” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নয়, বরং রাজ্যের বিরুদ্ধেই মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, “মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি ‘ঠান্ডা’ করতে বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ থেকে মানুষ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।”
অর্জুন সিং মূলত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়েও সরব হন। তিনি বলেন, “রাজ্যপালকে তো দেখাই যায় না, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীই যেন প্রশাসনের কাজ করে চলেছেন।” উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের জন্য শুভেন্দু অধিকারীই হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেয়।
বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজ্য পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি কর্নি সিং শেখাওয়াত বলেন, “আমরা স্বাধীনভাবে কোনও পদক্ষেপ করছি না; পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী আমরা সহায়তা করছি। যদি আরও কোম্পানির প্রয়োজন হয়, তবে আমরা তা সরবরাহ করব।”
সরকারি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে ৩০০ জন বিএসএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে এবং আরও পাঁচটি কোম্পানিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতকাল রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব ভিডিও কনফারেন্সে রাজ্যপাল ও ডিজির সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বেশ কিছু এলাকায় পুলিশ সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি কিছু গ্রামে পুলিশ অতর্কিতে লাঠি চালিয়েছে, যার ফলে অর্ধশতাধিকের বেশি নিরীহ মানুষ আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরেই এলাকায় বিএসএফ মোতায়েনের দাবি জোরালো হয়।
রাজ্যের বিরোধী শিবিরের নেতারা বলছেন, “মুর্শিদাবাদকে ‘ঠান্ডা’ করার নামে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করা হচ্ছে।” রাজনৈতিক মহলে এখন এটাই প্রধান আলোচনা—কার উদ্দেশ্য সাধিত হচ্ছে, রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে নাকি কেন্দ্রীয় স্বার্থ চরিতার্থ করা হচ্ছে?