প্রতি সেকেন্ডে স্ক্রিনশট! বিতর্কিত এআই টুল আনল মাইক্রোসফট, গোপনীয়তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

মাইক্রোসফট এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) টুল চালু করেছে, যা ব্যবহারকারীদের কম্পিউটারের স্ক্রিনের প্রতি কয়েক সেকেন্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ন্যাপশট (স্ক্রিনশট) নেবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, কোপাইলট+ রিকল নামের এই ফিচারটি মাইক্রোসফটের কিছু এআই পিসি ও ল্যাপটপ ব্যবহারকারীর জন্য প্রিভিউ মোডে উপলব্ধ করা হয়েছে।

সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট গত বছর প্রথমবারের মতো এই ফিচারটি আনার ঘোষণা দিয়েছিল। সেই সময় অনেকেই এটিকে ‘গোপনীয়তার দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

২০২৪ সালে মাইক্রোসফট ফিচারটির আনুষ্ঠানিক প্রবর্তন স্থগিত করে। সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর সঙ্গে প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করার পর, কোম্পানিটি তাদের ‘উইন্ডোজ ইনসাইডার’ সফটওয়্যার টেস্টিং প্রোগ্রামে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের জন্য ফিচারটির ব্যবহার বাড়াতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসির পক্ষ থেকে মাইক্রোসফটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তারা বিশ্বব্যাপী রিকল ফিচারটি চালু করবে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবহারকারীদের এই সুবিধা পেতে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

কোম্পানিটি আরও বলেছে, ব্যবহারকারীরা ফিচারটি ব্যবহার করার পাশাপাশি “যেকোনো সময় স্ন্যাপশট সংরক্ষণের প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে পারবেন”।

রিকল ফিচারের মূল উদ্দেশ্য হলো, পিসি ব্যবহারকারীদের তাদের অতীতের কার্যকলাপ, যেমন ফাইল, ছবি, ইমেইল এবং ব্রাউজিং ইতিহাস সহজে খুঁজে বের করার সুযোগ করে দেওয়া। মাইক্রোসফটের উদাহরণ অনুযায়ী, কিছুদিন আগে কোনো ব্যক্তি অনলাইনে কোনো পোশাক দেখলে, এই ফিচারটি ব্যবহার করে তিনি সহজেই খুঁজে বের করতে পারবেন যে কোথায় তিনি পোশাকটি দেখেছিলেন।

তবে, গোপনীয়তা নিয়ে আন্দোলনকারী ড. ক্রিস শ্রীশাক এর আগে রিকল ফিচারটিকে ‘গোপনীয়তার দুঃস্বপ্ন’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, এই ফিচার চালুর প্রক্রিয়া ‘উন্নতির বিষয়’ হলেও এর অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। “এক্ষেত্রে অন্যান্য ব্যক্তিদের তথ্য, বিশেষ করে যারা সম্মতি দিতে পারছেন না, তাদের তথ্যও এই রিকল ফিচারের মাধ্যমে সংগ্রহ ও ব্যবহার করবে কোম্পানিটি।”

ব্যবহারকারীর ইমেইল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপের ছবিও সংরক্ষণ করতে পারবে এই ফিচারটি। অর্থাৎ, অন্যদের ছবি ও মেসেজও মাইক্রোসফটের আওতায় সংরক্ষিত হবে। সাধারণত কোনো ব্যবহারকারী মেসেজ পেলে, তিনি তার প্রয়োজন ও ইচ্ছানুসারে সেটির স্ক্রিনশট নেন। কিন্তু মাইক্রোসফটের এই ফিচারের স্ক্রিনশট নেওয়ার বিষয়টি তেমন নয় বলে বিবিসি জানিয়েছে। শ্রীশাক আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “সিগন্যালে থাকা অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বিভিন্ন মেসেজও কিন্তু রিকলে সংরক্ষিত থাকবে।”

তবে মাইক্রোসফট জোর দিয়ে বলেছে যে, রিকলে সংরক্ষিত “স্ন্যাপশট বা ডেটা মাইক্রোসফট বা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করবে না” এবং বিভিন্ন ব্যবহারকারীর মধ্যেও এই তথ্য ভাগ করা যাবে না। কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, “রিকল চালু করার আগে এবং বিভিন্ন স্ন্যাপশটে প্রবেশের আগে আপনাকে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।” এছাড়াও, রিকলের মাধ্যমে তোলা বিভিন্ন ছবি ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং ব্যবহারকারী চাইলে এই স্ক্রিনশটগুলো মুছে ফেলতে পারবেন বলেও মাইক্রোসফট নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাজ্যের ডেটা নিয়ন্ত্রক জানিয়েছে, তারা “এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অব্যাহত রেখেছে”। এই বিতর্কিত এআই টুলটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।