মুর্শিদাবাদের আতঙ্ক মালদায়! প্রাণের ভয়ে এক কাপড়ে ঘরছাড়া ধুলিয়ানের বহু পরিবার, জলে বিষ মেশানোর অভিযোগ

অশান্ত মুর্শিদাবাদ থেকে প্রাণের ভয়ে এক কাপড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে বহু পরিবার। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ জন মানুষ মালদার বৈষ্ণবনগরের একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বাড়িঘর ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি পানীয় জলের উৎসেও বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) সহায়তায় কোনোমতে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন তাঁরা।

আশ্রয় নেওয়া এক মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমরা খুব দুঃখের মধ্যে এসেছি এখানে। আমাদের বাড়ি নেই, ঘর নেই। সংসারের যা কিছু জিনিস ছিল, সব আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। পেট্রোল ঢেলেছিল। বাড়িঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল। জলের ট্যাঙ্কে বিষ দিয়ে দিয়েছে। আমরা কী খাব? কী করে বাঁচব? কাল বিকেলে এসেছি। আমাদের এখান থেকে নৌকা পাঠিয়েছিল। পুলিশে পৌঁছে দিয়ে গেছে।”

আরেকজন মহিলা একইরকম ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান, “ট্যাঙ্ক ভেঙে দিয়েছে। জলও খেতে দেয় না। চাল, মুড়ি, বিস্কুট – যা ছিল সব নষ্ট করে দিয়েছে। সকাল থেকে আমার তিনটে বাচ্চা না খেয়ে আছে। পরিবারের সকলের পেটে দানাপানি নেই। এখানে এসে একটু খাবার জুটল। ভয়ে পালিয়ে এসেছি। আমাদের ওখানে যত বাড়ি ছিল, সব জ্বালিয়ে দিয়েছে। বিএসএফ থাকতেই আমরা পালিয়ে এসেছি।”

এদিকে, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের রতনপুর এলাকা এখনও থমথমে। রাস্তাঘাট ফাঁকা, বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ। রাস্তায় এখনও পুলিশের ভাঙা গাড়ি পড়ে রয়েছে। আজ সকালে পুলিশের আশ্বাসের পর একটি ওষুধের দোকান খুললেও, গত পরশু সেই দোকানেও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। দোকান খুললেও মালিক আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এলাকার একাধিক ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, ধুলিয়ান বাজারের একটি মিষ্টির দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। আজ সেই দোকান পরিষ্কার করার ছবি দেখা গেছে। সকাল থেকেই রাস্তায় বিএসএফ টহল দিচ্ছে, পুলিশের রুটমার্চও অব্যাহত রয়েছে। ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের বাড়িতে এখনও ভাঙচুরের স্পষ্ট চিহ্ন, বাড়িটি তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

এরই মধ্যে গতকাল বিকেলে ফের সামশেরগঞ্জ থানার ধুলিয়ানে সামশের নাদাব নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। পরিবারের দাবি, তাঁর কোমরের কাছে গুলি লাগে। রাতেই তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয় এবং বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় যুবক বেশ কিছুক্ষণ বাড়ির কাছে পড়েছিলেন। খবর পাওয়ার পর প্রথমে স্থানীয় নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত ঘরছাড়া মানুষ কবে নিজেদের ভিটেয় ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।