“কাশ্মীর ঠান্ডা হয়েছে, বাংলাও বেশিদিন সময় নেবে না “,পিয়াসবাড়ি এলাকায় ‘চায়ে পে চর্চায়’ মন্তব্য দিলীপের !

“কাশ্মীর ঠান্ডা হয়েছে, বাংলা ঠান্ডা হতে বেশি সময় লাগবে না।” বৃহস্পতিবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পিয়াসবাড়ি এলাকায় ‘চায়ে পে চর্চায়’ অংশ নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। স্বাভাবিকভাবেই এদিনের আলোচনায় উঠে আসে মোথাবাড়ি ইস্যু। এ নিয়ে দিলীপের স্পষ্ট জবাব, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশি ঢুকিয়ে, রোহিঙ্গা ঢুকিয়ে কিংবা জঙ্গি ঢুকিয়ে এখানে উৎপাত করার যতই চেষ্টা করুন, একদিন সব সোজা হয়ে যাবে। কাশ্মীর ঠান্ডা হয়েছে, বাংলা হতে বেশিদিন লাগবে না।”

তিনি চাকরিহারা শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে রাজ্য সরকারকেও তীব্র আক্রমণ করেন। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও নস্যাৎ করে দেন প্রাক্তন এই সাংসদ। সম্প্রতি তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দিলীপের বিরুদ্ধে রেলের বাংলো দখল করে রাখার অভিযোগ তোলেন। এই নিয়ে দিলীপের বিরুদ্ধে ক্রমশ সুর চড়াচ্ছে রাজ্যের শাসক দল।

এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ওটা আমার বাংলো নয়, রেলেরই বাংলো। অনেক বছর ধরে ওটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। সেটির সংস্কার করে রেল কমিটিতে যাঁরা থাকেন তাঁদের একজনের নামে বরাদ্দ হয়েছিল। সেই কমিটির অস্তিত্ব এখন আর নেই। তাই যাঁর নামে বাংলোটি বরাদ্দ, তাঁকে হস্তান্তর করা হয়নি। বাংলোটি ফের অ্যালটমেন্ট হবে। তৃণমূলের যে নেতারা এই বিষয়টিকে ইস্যু করছেন, তাঁরাই খড়গপুরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এসি লাগানো বড় বড় অফিস বানিয়েছে। সেখান থেকে ব্যবসা হচ্ছে। তাঁরাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। সাধারণ মানুষ ওই বাংলোয় দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। আমি যখন ওখানে থাকি তখন তাঁদের সঙ্গে কথা বলি। বাকি সময়টা তালাবন্ধ থাকে। আমার কাছে টাকা-পয়সা নেই। রেলের অনুমতি নিয়েই অন্যের নামে বরাদ্দকৃত ভাঙা বাংলোটি ব্যবহার করছি। ওখানে সাপ, ইঁদুর সবই আছে, আমিও আছি।”

চাকরিহারা শিক্ষকদের সমর্থনে বিজেপি যে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে, এদিন সেটা স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিয়েছেন খড়গপুরের প্রাক্তন এই সাংসদ। তিনি বলেন, “যে শিক্ষকদের আজ স্কুলে বসে ছাত্র পড়ানোর কথা, তাঁরা রাস্তায় কেন বসে রয়েছেন? যাঁদের পরীক্ষার খাতা দেখার কথা, তাঁরা কেন পুলিশের লাঠি খাচ্ছেন? এর জন্য কে দায়ী? ববি হাকিম বুকে হাত দিয়ে বলুন, অবৈধ শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে কি না। তা না-হলে ওএমআর শিট নষ্ট করা হল কেন? ১৮ হাজার যোগ্য শিক্ষক তালিকায় রয়েছেন। এঁরা যথার্থই পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছিলেন। কেন সেই তালিকা আদালতে দেওয়া হচ্ছে না? কেন সরকার আদালতে গিয়ে বিচারপতিকে বলছে না, আগে ১৮ হাজারের চাকরিটা নিশ্চিত করুন। এই ইস্যুতে যাঁরা আন্দোলন করছেন তাঁরা সাহায্য চাইলে বিজেপি সেই সাহায্য করবে। রাজনৈতিক আন্দোলনও করবে। আমরা শিক্ষকদের এই আন্দোলন নৈতিক সমর্থন করছি। যেদিন প্রয়োজন পড়বে, সেদিন রাস্তায় নেমে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাঁদের অধিকার পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।”