WhatsApp-এ স্প্যাম মেসেজ থেকে মিলবে স্বস্তি, যুক্ত হচ্ছে নতুন ফিচার

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল অপ্রয়োজনীয় প্রোমোশনাল মেসেজ বা স্প্যাম নিয়ে। অবশেষে মেটার মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের সেই বিরক্তি থেকে মুক্তি দিতে নিয়ে এলো একগুচ্ছ নতুন নিয়ন্ত্রণ ফিচার। হোয়াটসঅ্যাপের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর হাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া এবং ব্যবসায়িক মেসেজিংকে আরও অর্থবহ ও নিরাপদ করে তোলা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র সেইসব ব্যবহারকারীদের কাছেই মেসেজ পাঠাতে পারবে, যারা স্পষ্টভাবে তাদের কাছে মেসেজ পাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর অর্থ হলো, যদি কোনো ব্যবহারকারী কোনো বিজনেস ওয়েবসাইটে, দোকানে থাকা কোনো ফর্মে অথবা সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে মেসেজ পাঠানোর অনুমতি না দেন, তাহলে সেই ব্যবসা আর সেই ব্যবহারকারীকে মেসেজ পাঠাতে পারবে না।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে ব্যবহারকারীরা অপ্রয়োজনীয় বার্তার হাত থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন এবং তাদের ব্যক্তিগত চ্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়াও, হোয়াটসঅ্যাপ এখন থেকে প্রতিটি ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করবে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই যেকোনো ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টকে ব্লক করতে পারবেন এবং অবাঞ্ছিত মেসেজের বিরুদ্ধে রিপোর্ট জানাতে পারবেন। এমনকি ব্যবহারকারীরা রিপোর্টের কারণও নির্দিষ্ট করে জানাতে পারবেন, যা হোয়াটসঅ্যাপকে স্প্যাম চিহ্নিত করতে আরও সাহায্য করবে।
ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে হোয়াটসঅ্যাপ নতুন ‘Interested / Not Interested’ বাটন চালু করছে। এই বাটনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট মেসেজের প্রতি তাদের আগ্রহ অথবা বিরক্তি প্রকাশ করতে পারবেন। এর ফলে হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষে স্প্যাম মেসেজ শনাক্ত করা সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে মেসেজিং নীতি নির্ধারণে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যবহারকারীরা এখন যেকোনো সময় চ্যাট পারমিশনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারবেন। অর্থাৎ, কাকে মেসেজ পাঠানোর অনুমতি দেবেন এবং কাকে দেবেন না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারকারীর উপর নির্ভর করবে। এই নতুন ফিচারের ফলে ব্যবসায়িক চ্যাটে বাড়তি ঝামেলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হোয়াটসঅ্যাপের এই পদক্ষেপ ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত ও সুরক্ষিত করবে, এমনটাই আশা করা যাচ্ছে।