হ্যাকারদের ঠেকাবে এই নতুন ইন্টারনেট নিরাপত্তা প্রযুক্তি, জেনেনিন নতুন সুরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে

সাইবার অপরাধীদের দৌরাত্ম্য রুখতে এবং ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম কম্পিউটারের হ্যাকিংয়ের হুমকি মোকাবিলায় এক নতুন ইন্টারনেট নিরাপত্তা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। জার্মানির ‘কার্লসরুয়ে ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ (কেআইটি)-এর গবেষকরা এই যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন।
কেআইটি-র অধ্যাপক লরেন্ট শ্ম্যালেন জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যবহৃত বেশিরভাগ এনক্রিপশন পদ্ধতি বড় সংখ্যাকে মৌলিক সংখ্যায় ভাঙার নীতির উপর নির্ভরশীল। সাধারণ কম্পিউটারের জন্য এই প্রক্রিয়া জটিল হলেও, কোয়ান্টাম কম্পিউটার খুব দ্রুত এই কাজটি করতে পারে, যা বর্তমান এনক্রিপশন ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলবে।
এই ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য কেআইটি-র গবেষকদের একটি দল তাদের সহযোগীদের সাথে মিলে এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করেছে, যেখানে ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম কম্পিউটারের হুমকি মোকাবিলায় প্রচলিত এনক্রিপশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি ‘সিমেট্রিক এনক্রিপশন’-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এই পদ্ধতিতে যোগাযোগকালে উভয় পক্ষই বার্তা বা টেক্সট লক ও আনলক করার জন্য একই ডিজিটাল ‘কি’ ব্যবহার করে। সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে এই পদ্ধতি অত্যন্ত নিরাপদ। তবে সমস্যা হল, এই ‘কি’ নিরাপদে ভাগ করে নেওয়া ব্যয়বহুল এবং এর জন্য জটিল সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল, গবেষকরা প্রচলিত ও সাশ্রয়ী মূল্যের হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে এই নিরাপদ ‘কি’ বিনিময়ের একটি নতুন উপায় খুঁজে বের করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ঘরবাড়ি ও ভবনে ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত বিভিন্ন ফাইবার অপটিক কেবল।
এর অর্থ হল, বিশেষ ডিভাইসের প্রয়োজন ছাড়াই বিশ্বজুড়ে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষকরা আশা করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি আরও ব্যবহারিক এবং সকলের কাছে সহজলভ্য হয়ে উঠবে।
সম্প্রতি ‘লুডভিগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ মিউনিখ’ (এলএমইউ মিউনিখ)-এ গবেষণা দলটি রিয়েল টাইমে তাদের এই পদ্ধতির কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে। তারা নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে নিরাপদে একটি ভিডিও পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।
উভয় পক্ষই যাতে ঠিক একই এনক্রিপশন ‘কি’ পায় এবং অন্য কেউ যাতে তা চুরি করতে না পারে, তার জন্য গবেষকরা স্মার্ট অ্যালগরিদম তৈরি করেছেন। এই অ্যালগরিদম পরিবর্তনশীল নেটওয়ার্ক পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং কেউ আড়ি পাতার চেষ্টা করলেও ‘কি’ বিনিময় নিরাপদ রাখবে।
‘এডিভিএ নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি’-র গবেষণা ও উন্নয়ন পরিচালক টোবিয়াস ফেহেনবার্গার এই আবিষ্কারকে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের হাত থেকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আদর্শ সরঞ্জামসহ কার্যকর একটি ব্যবস্থা তৈরিতে তাদের এই সাফল্য ইঙ্গিত দেয় যে, এই ধরনের নিরাপত্তা কেবল ল্যাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খুব শীঘ্রই বাস্তব বিশ্বের পরিস্থিতিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
গবেষকরা আশাবাদী, শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার বাস্তবে রূপ নেওয়ার পরেও এই নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিরাপদ থাকবে।