“SSC-র চাকরিহারাদের জন্য টাস্কফোর্স গঠন”-BIG STEP নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) শিক্ষকদের চাকরি কেলেঙ্কারির ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই ঘোষণা করেন। মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এই টাস্কফোর্স আইনি বিষয়গুলির উপর নজরদারি রাখবে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই বিশেষ টাস্কফোর্সে মুখ্য সচিব ছাড়াও শিক্ষা সচিব, আইন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই টাস্কফোর্স আইনি প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে কোনও অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব না ঘটে এবং দ্রুত ন্যায়সঙ্গত সমাধানের দিকে এগোনো যায়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন এবং একটি সম্ভাব্য সমাধানের পথ দেখান। সভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে নিয়োগ দুর্নীতি এবং চাকরি বিক্রির ঘটনা তাঁর অজ্ঞাতসারেই ঘটেছে। এই আইনি লড়াইয়ের জন্য তিনি অভিজ্ঞ আইনজীবীদের একটি প্যানেল তৈরি করার কথাও ঘোষণা করেন এবং চাকরিহারাদের একটি প্রতিনিধিদলকে নিয়মিতভাবে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন। মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, “জীবন থাকতে কারও চাকরি যেতে দেব না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই চাকরি বিক্রি এবং নিয়োগ দুর্নীতির মতো গুরুতর বিষয়গুলি তাঁর অগোচরেই সংঘটিত হয়েছে। তবে, চাকরিহারাদের জন্য রাজ্য সরকার পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী পাঁচজন বিশিষ্ট আইনজীবীর নামও ঘোষণা করেন, যাঁরা এই আইনি প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারকে সহায়তা করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চাকরি বিক্রি হয়েছে, চাকরি চুরি হয়েছে আমি জানিই না। তাও আমাকে খারাপ কথা শুনতে হচ্ছে। কাজ করতে গেলে একটা দুটো ভুল হয়েই যায়। একটা কলমের খোঁচায় জীবনটা সমস্যায় পড়ে গিয়েছে। আমাকে জেলে ভরে দিলেও আই ডোন্ট কেয়ার। মানুষ যখন সমস্যায় পড়ে তখন তাদের পাশে দাঁড়াতে হয়। আমি কেস স্টাডি করে দেখেছি। যারা যোগ্য এবং বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। তবে, আইনি প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের পুনর্বহাল কিভাবে সম্ভব হবে, সেদিকেই এখন সকলের নজর থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য ক্ষতিগ্রস্তদের ধৈর্য ধরার এবং সরকারের উপর ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।