CESC-সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক, ১৮ কোটি টাকা তৃণমূলের ফান্ডে !

রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা CESC-এর আওতাধীন সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচন আগামী ১৭ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তবে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নানা বিতর্ক ও অভিযোগের ঝড় উঠেছে, যা পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত করে তুলেছে। ২০১১ সালের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলায় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ সংস্থারই এক কর্মী।

ওই কর্মী কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। তাঁর প্রধান অভিযোগগুলির মধ্যে অন্যতম হল ভোটার তালিকা এখনও পর্যন্ত প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে, কারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, তা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। বারবার জানতে চাওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ ভোটার তালিকা প্রকাশ না করায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়াও, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন মামলাকারী। তাঁর দাবি, গত ২১ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমায় শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছেন। এমনকি, যারা অন্য কোনও প্রার্থীকে সমর্থন করেছিলেন, তাঁদের শারীরিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে নির্বাচন আদৌ অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কিনা।

এই বিতর্কের মধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলাকারীর দাবি, ২০২১ সালে CESC-এর পক্ষ থেকে সমবায়ের উন্নতির জন্য ১৮.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিলে চলে গেছে এবং এর মূল কাণ্ডারি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

যদিও মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এই অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেন, যে ইউনিয়ন নির্বাচনে ৯৮ শতাংশ ভোট পাওয়ার মতো শক্তিশালী, তাদের নির্বাচনে জিততে কোনওরকম অশান্তি বা মারধরের আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁরা নির্বাচনে জয়ী হবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

তবে, এই নির্বাচনের আগে যেভাবে বিতর্ক, অভিযোগ এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে CESC-এর কর্মী এবং রাজ্য বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার মধ্যে একটি চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১৭ই এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা বজায় থাকে। হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলার রায় এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেও নজর থাকবে সকলের।