JU-তে রাম নবমী পালনে ‘না’, ইফতারে ‘হ্যাঁ’ কেন?-প্রশ্ন তুললো ABVP

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রামনবমী উদযাপনকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র অভিযোগ করেছেন যে কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যাম্পাসে রামনবমীর মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে বাধা দিচ্ছে, যেখানে অন্যান্য ধর্মীয় বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে কোনও প্রকার সমস্যা হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র বলেন, “এটা স্পষ্ট বৈষম্য। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে রামনবমী পালন করতে চাইলেও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।”
জানা গিয়েছে, গত ২৮শে মার্চ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাধারণ ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে রামনবমী পালনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। তবে, ৫ই এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের একটি লিখিত জবাবে জানায় যে উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) অনুপস্থিত থাকার কারণে এই মুহূর্তে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
এই উত্তরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবেদনকারী ছাত্ররা। অন্যতম আবেদনকারী সোমসূর্য ব্যানার্জী এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা ২৮ তারিখে অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। আজ (৫ এপ্রিল) তারা জানাচ্ছে ভিসি না থাকার কারণে অনুমতি দেওয়া যাবে না। অথচ এপ্রিল মাসের ৩ ও ৪ তারিখে এসএফআই (SFI) ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করল, তখনও তো ভিসি ছিলেন না—তবুও সেই অনুষ্ঠান হল! তাহলে কি তাদের জন্য আলাদা নিয়ম আর আমাদের জন্য আলাদা?”
ছাত্রদের আরও অভিযোগ, এর আগে ক্যাম্পাসে ইফতার সহ একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তখন কর্তৃপক্ষ কোনও আপত্তি জানায়নি। তাহলে রামনবমী পালনের ক্ষেত্রে কেন এই বাধা? সোমসূর্য আরও বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে রামনবমী উদযাপন করতে চাই। আমরা প্রশাসন এবং অন্যান্য সকল ছাত্র সংগঠনের সহযোগিতা আশা করছি।”
ইতিমধ্যেই ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় থানায় একটি ইমেল পাঠিয়ে তাদের শান্তিপূর্ণভাবে রামনবমী পালনের অভিপ্রায় জানিয়েছেন।
ছাত্রদের বক্তব্যে হতাশা এবং বঞ্চনার সুর স্পষ্ট। তাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, “একটি ধর্মীয় উৎসব পালন করাও যদি রাজনৈতিক রঙ পায়, তাহলে গণতন্ত্র কোথায়?” একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির অজুহাতে একপাক্ষিক আচরণের অভিযোগ, অন্যদিকে ছাত্রদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার—এই পরিস্থিতিতে ফের একবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত ‘আবহ’ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।