“যখন একজন নকশাল মারা যায়, কেউ খুশি হয় না”- ফের বড় বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শনিবার দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন যে নকশালরা ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের আদিবাসীদের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আর বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। রাজ্য সরকারের ‘বস্তার পাণ্ডুম’ উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি নকশালদের অস্ত্র ত্যাগ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার জন্য আবারও আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সরকার ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যেই নকশালবাদের অবসান ঘটাতে বদ্ধপরিকর।

অমিত শাহ বলেন, “এখানে যখন গুলি চলত, বোমা ফাটানো হত, সেই ভয়াবহ সময় এখন অতীত হয়েছে। যাদের হাতে এখনও অস্ত্র আছে, তাদের আমি অনুরোধ করছি, সেই অস্ত্র নামিয়ে রেখে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। কারণ আপনারা আমাদেরই অংশ। একজন নকশাল নিহত হলে কেউ আনন্দিত হয় না। এই অঞ্চলের প্রকৃত প্রয়োজন উন্নয়ন। গত ৫০ বছরে যে উন্নয়ন এখানে পৌঁছায়নি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি আগামী ৫ বছরে সেই উন্নয়ন এনে দেখাবেন।”

বস্তারে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বস্তারে তখনই প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে যখন এখানকার শিশুরা নির্ভয়ে স্কুলে যাবে, মায়েদের স্বাস্থ্যের সঠিক পরিচর্যা করা হবে, আদিবাসী ভাইবোনেরা অপুষ্টির শিকার হবে না এবং তাদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি গ্রামে একটি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রতিটি তহসিলে একটি আধুনিক হাসপাতাল, প্রতিটি বাড়িতে বিনামূল্যে ৭ কেজি চাল পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও সকলের কাছে আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা থাকতে হবে। আর এটা তখনই সম্ভব যখন বস্তারের মানুষ দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নেবে যে এখানকার প্রতিটি গ্রাম নকশালমুক্ত হবে।”

তিনি আরও জানান, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে যে সকল গ্রাম নকশালদের আত্মসমর্পণ করতে এবং নিজেদের নকশালমুক্ত ঘোষণা করতে সাহায্য করবে, সেই গ্রামগুলিকে ১ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজের উপহার দেওয়া হবে।

নকশালদের আত্মসমর্পণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, “২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত ৫২১ জন নকশালবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন, যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৮১। যারা বুঝতে পেরেছেন যে উন্নয়নের জন্য বন্দুক, আইইডি এবং গ্রেনেডের প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন কম্পিউটার এবং কলমের, তারাই আজ আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছেন।”

‘বস্তার পাণ্ডুম’ উৎসবের ভূয়সী প্রশংসা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে আগামী বছর এই উৎসব জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হবে। তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার এবং আদিবাসী ভাইবোনদের আশীর্বাদ করার জন্য অনুরোধ করবেন বলেও জানান। বস্তারের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন অমিত শাহ।