মেয়ের মৃত্যুর পর বাসন্তীপুজো মায়ের, করলেন ১৭ কোটির সম্পত্তি দান, প্রশংসা সকলের

মেয়ের অকালমৃত্যুর গভীর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে দশভূজার আরাধনায় মগ্ন এক মা। বোলপুরের কাচ্ছারিপট্টির বাসিন্দা শীলা মণ্ডল তাঁর প্রয়াত কন্যা শুভ্রা মণ্ডলের স্মৃতি আঁকড়ে প্রতি বছর দুর্গাপূজা আয়োজন করেন। মায়ের বিশ্বাস, দশভূজার আবাহনের মধ্যে দিয়েই তিনি তাঁর হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে খুঁজে পান। এই বিশেষ পুজোয় আসা প্রতিটি মানুষের মধ্যেই তিনি যেন তাঁর মেয়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান।
শীলা মণ্ডলের মেয়ে শুভ্রা মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করার পর ৩৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়কালে শুভ্রা স্বাভাবিক জীবনের কোনও স্বাদ পাননি। পড়াশোনা, প্রেম, সংসার কিংবা কোনও উৎসবে অংশগ্রহণ – কিছুই তাঁর ভাগ্যে জোটেনি। বরং জীবনের ২৮টি বছর তিনি কখনও শয্যাশায়ী, কখনও আবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাটিয়েছেন। একমাত্র সন্তানকে হারানোর গভীর বেদনা বুকে ধারণ করেও ভেঙে পড়েননি শীলা মণ্ডল।
বরং এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিজের ১৭ কোটি টাকার সম্পত্তি একটি ট্রাস্টের নামে দান করে দিয়েছেন শুভ্রার মা। সেই জমিতে তৈরি হচ্ছে শিবমন্দির ও একটি বিদ্যালয়। আর সেই দান করা জমিতেই তিনি স্থাপন করেছেন দশভূজার প্রতিমা এবং করছেন মায়ের আরাধনা। এই ব্যতিক্রমী পুজোয় আসা ভক্তরা যেন মা দুর্গার মাঝে তাঁদের তারাদের দেশে চলে যাওয়া শুভ্রাকেই খুঁজে পান।
পূজায় আগত প্রত্যেক মহিলাকেই নিজের মেয়ের মতো দেখেন শীলা মণ্ডল। দশভূজার আরাধনার পাশাপাশি তিনি সকলের কাছে নিজের মেয়ের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন। মায়ের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি যেন প্রতি বছর এই পুজোয় এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে কন্যার স্মৃতিকে অমলিন রাখার এই মায়ের কাহিনি সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক।