বিশেষ: আমেরিকার MOST WANTED ব্যক্তির শেষ পরিণতি, জানলে অবাক হবেন আপনিও

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন জেফস নামক একজন একটা সময় সেই দেশের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তির তালিকায় ছিলেন। তিনি এমন কিছু কাজ করেছিলেন যার পরিণতি হয়েছিল করুন। তার ছিল ৮০ জন স্ত্রী এবং ৬০ জন সন্তানের জননী তিনি। মজার ব্যাপার হলো তারা সবাই একই ছাদের নিচে একসঙ্গে বসবাস করতো।

ওয়ারেন জেফস স্ত্রী তার বাবারও স্ত্রী ছিল। তাদের মাঝে অনেকে ছিলেন অল্প বয়সে বালিকা। কম বয়সীদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ১৪ কিংবা তার কম বয়সের। ওয়ারেন জেফস এবং তার পরিবারের বিষয়টি বেশ রহস্যময়। এই রহস্যের পেছনে অনেকটা দায়ী তাদের ধর্ম। তারা যে ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন সেই ধর্ম মতে কোনো পুরুষের যদি তিন জনের বেশি স্ত্রী থাকে, তাহলে সেই পুরুষ এবং তার পুরো পরিবার স্বর্গের বিশেষ স্থানে জায়গা লাভ করবে।

তাই বোঝার ক্ষমতা হওয়ার পর থেকেই ওয়ারেন জেফস একের পর এক বিয়ে করে গেছেন। তার পত্নী সংখ্যা ৮০ এসে ঠেকেছে। অনেকে বলে থাকেন তার স্ত্রী সংখ্যা ৮০ জনেরও বেশি। ইন্টারনেট খুঁজলে এই পরিবারের অনেক ছবি দেখা যাবে। সেখানে প্রত্যেককে দেখতেই ভীষণ সুখী বলে মনে হয়।

তবে তাদের পুরো পরিবারের সবার কাছ থেকে কিছু তথ্য সব সময় গোপন করে রাখতো। সেই সত্য প্রকাশ হবার পর চমকে গিয়েছিল পুরো বিশ্ব। ওয়ারেন জেফস তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যেখানে বসবাস করতো সেখানকার সব ঘর-বাড়ি, মানুষ দেখতে অন্য সব সাধারণ এলাকার মতো হলেও তাদের চালচলন একটু ভিন্নতা দেখা যায়।

তাদের খাবার, পোশাক, সাজের ধরণ একটু আলাদা ছিল। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হলো সে সমাজের সবাই বিশ্বাস করতো ওয়ারেন জেফস তাদের সবারকে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারবে, তাই তারা রীতিমতো ওয়ারেন জেফসের পূজা করতে শুরু করে।

ওয়ারেন জেফস তার বাবার অনুসারী ছিলেন। কারণ তার বাবা রুলন জেফসকে সবাই একইভাবে বিশ্বাস করতো। তার বাবার স্ত্রী সংখ্যা ছিল ৬৫ জন। ওয়ারেন জেফসের বাবা মারা যাবার পর বাবার স্ত্রীদেরকে সে নিজেই বিয়ে করে নেন কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই। কারণ তারা মনে করতো এসব তাদের ধর্মের অংশ।

তবে ওয়ারেন জেফসের ভালো মানুষের চেহারা পেছনে ছিল এক ভয়ংকর সত্য। সে আসলে একজন মানুষ রুপি শয়তান ছিল। ওয়ারেন জেফস চাইত সবাইকে নিয়ন্ত্রন করতে। সেই সমাজে সব মানুষ কেবল তার অনুসারী হবে, তার কথা মতোই সবাইকে চলতে হবে এরকম ধারণা পোষণ করতো সে। নিজের ধারণা সমাজে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল ওয়ারেন জেফস।

তবে তার ভণ্ডামি বন্ধ হয়ে যায় যখন সে ১২ এবং ১৪ বছর বয়সে দুজনকে মেয়েকে বিয়ে করে। কেবল বিয়েই নয়, সে তাদের সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্কে আবদ্ধ হতে চায়। তখন সেই মেয়ের মা ওয়ারেন জেফসের বিরুদ্ধে মামলা করে দেয়। তিনি নিজেও একসময় ওয়ারেন জেফসের অপব্যবহারের শিকার হয়েছিলেন।

২০০৬ সালে ওয়ারেন জেফসকে লাস ভেগাস থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একে একে তার মুখোশ উন্মোচিত হতে থাকে। ওয়ারেন জেফসের অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি ছোট শিশুরাও। অন্য অনেকের সঙ্গে ওয়ারেন জেফসের ৬৫ তম স্ত্রীও কুকর্মের ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়।

সব অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পড় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওয়ারেন জেফসের স্ত্রীদের মধ্যে অনেকেই তাকে ছেড়ে চলে গেছে। আর যারা সঙ্গে আছে তাদের মধ্যে অনেকে এখনো বিশ্বাস করে ওয়ারেন জেফস আসলেই সৃষ্টিকর্তার কাছের মানুষ।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, নিউ ইয়র্ক পোস্ট