পড়ুয়াদের পাঠ দেওয়া হবে ‘গুড টাচ ব্যাড টাচ’, যৌন হেনস্তা রুখতে উদ্যোগ ‘পুর-স্কুল’ !

শহর কলকাতার পুর প্রাথমিক স্কুলগুলির পড়ুয়াদের যৌন হেনস্তা থেকে রক্ষা করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা পুরনিগম। এবার থেকে পুর স্কুলগুলিতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ‘গুড টাচ’ (ভালো স্পর্শ) এবং ‘ব্যাড টাচ’ (খারাপ স্পর্শ) সম্পর্কে পাঠ দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিককালে দেশ এবং রাজ্যে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিকৃত মানসিকতার কিছু মানুষ নাবালিকা থেকে শুরু করে একেবারে ছোট শিশুদেরও যৌন লালসার শিকার করছে। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের মন থেকে ভয় দূর করতে এবং তাদের সচেতন করতে উদ্যোগী হয়েছে কলকাতা পুরনিগমের শিক্ষা বিভাগ। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রান্তিক পরিবার থেকে অক্ষরজ্ঞান অর্জনের জন্য আসা শিশুরাও যাতে বুঝতে পারে কোনটি ভালো স্পর্শ এবং কোনটি খারাপ, সেই উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ পাঠক্রম চালু করা হবে।

পুরনিগম সূত্রে খবর, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং মনস্তাত্ত্বিকদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। কীভাবে এই পাঠ পড়ুয়াদের দেওয়া যায় এবং অভিভাবকদেরই বা কীভাবে এই বিষয়ে সচেতন করা যায়, তা নিয়ে শিক্ষা বিভাগ বিস্তারিত ভাবনাচিন্তা করছে। সেই ভাবনা থেকেই ধীরে ধীরে হলেও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাইছে পুরনিগমের শিক্ষা বিভাগ। এই পাঠদানের পদ্ধতি এবং রূপরেখা কেমন হবে, তার একটি প্রাথমিক নীল নকশা তৈরি করেছেন পুরকর্তারা।

ছোটদের শরীরে বড়দের কোন ধরনের স্পর্শ ভালো, কোন ধরনের স্পর্শ খারাপ, কোন স্পর্শ যৌন নিগ্রহ বা শ্লীলতাহানির সমান, অথবা কোন স্পর্শ যৌন ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ – এই সমস্ত বিষয়গুলি সহজভাবে শিশুদের মনে প্রবেশ করানো হবে। এর ফলে তারা নিজেদের প্রতি হওয়া যেকোনো খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারবে। উল্লেখ্য, শহরের বহু বেসরকারি স্কুল এবং কিছু সরকারি স্কুলেও ইতিমধ্যেই ‘গুড টাচ, ব্যাড টাচ’-এর পাঠ দেওয়া হয়। এবার সেই পথ অনুসরণ করে পুর প্রাথমিক স্কুলগুলিতেও এই বিষয়টি চালু করতে চলেছে কলকাতা পুরনিগমের শিক্ষা বিভাগ।

তবে, প্রান্তিক পরিবারের ছেলেমেয়েদের এই বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া একটি সহজ কাজ নয়। সেই কারণে পুর কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ পাঠক্রম এবং শিক্ষাদানের পদ্ধতির রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণের জন্য বেশ কয়েকবার কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে কীভাবে এই পঠনপাঠনকে আরও সহজ ও কার্যকর করা যায়, তার জন্য পুরনিগমের আইটি বিভাগও সহায়তা করছে। পড়ুয়াদের মনে যাতে এই বিষয়গুলি সহজে গেঁথে যায়, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই বিষয়ে কলকাতা পুরনিগমের শিক্ষা বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপন সাহা বলেন, “আমরা এই বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নিচ্ছি। আমাদের এখানে অনেক ছাত্রছাত্রী আছে, তাদের এই শিক্ষা দেওয়াটা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। ছোট বয়স থেকে ‘গুড টাচ’ এবং ‘ব্যাড টাচ’-এর পার্থক্য বোঝাতে পারলে, মনে হয় তাদের অনেক উপকার হবে। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি। একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। কোন শ্রেণি থেকে এই পাঠ দেওয়া সম্ভব, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।”