“সোমার মতো আমাদের চাকরিটাও থাকুক! চিকিৎসা চালাব কীভাবে?”

২০১৬ সালের এসএসসি দুর্নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জেরে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। কিন্তু এর মাঝেও একজন রয়েছেন যিনি চাকরি হারাননি—তিনি সোমা দাস। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী তাঁর চাকরি বহাল রাখা হয়েছে, কারণ তিনি ক্যানসার আক্রান্ত।

কিন্তু এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন—সোমা দাসই কি একমাত্র ক্যানসার আক্রান্ত? না। আরও অনেকেই রয়েছেন এই কঠিন রোগে আক্রান্ত, অথচ তাঁদের ভাগ্যে জুটেছে ছাঁটাইয়ের দুঃসংবাদ। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন সায়ানগাম ভাওয়াল ও সোমনাথ মালো।

দার্জিলিংয়ের ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরের বাসিন্দা সায়ানগাম ভাওয়াল। ২০১৬-র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৮ সালে কুরমানালি হাইস্কুলে শিক্ষকতার কাজ শুরু করেন। সব ঠিকঠাক চলছিল, হঠাৎ করেই ২০২৪ সালের শেষ দিকে শরীর খারাপ হতে শুরু করে। পরে জানা যায়, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত।

পরিবারে ছোট মেয়ে, স্ত্রী, ভাই ও ভাইয়ের পরিবার—সবার ভরসা ছিলেন সায়ানগাম। মুম্বইয়ে শুরু হয় চিকিৎসা, চলে কেমোথেরাপি। অদম্য মনোবল নিয়ে লড়ছিলেন মৃত্যুর বিরুদ্ধে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় যেন সমস্ত আশা ছিনিয়ে নেয়—চাকরি চলে যায় তাঁরও।

তিনি ভেঙে পড়ে বলেন—“বিচার ব্যবস্থার উপর ভরসা ছিল, কিন্তু এমন রায় আশা করিনি। আমি নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। এখন চাকরি না থাকলে চিকিৎসা চালাব কীভাবে? সংসার চলবে কীভাবে?”

তাঁর মা ও মামা আবেদন জানিয়েছেন,“সোমা দাসের মতো সায়ানগামকেও ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হোক। অন্তত বেতনটা পেলে চিকিৎসা চালানো সম্ভব হবে।”

নদিয়ার বাসিন্দা সোমনাথ মালো, যিনি একসময় ছিলেন আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়াবিদ। দক্ষিণ কোরিয়ায় হাই জাম্পে সোনা জিতেছিলেন তিনি, উড়িয়েছিলেন ভারতের তেরঙ্গা। ২০১৬ সালে পেয়েছিলেন শিক্ষাকর্মীর চাকরি। আজ তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত এবং চাকরিহীন।

তাঁর কথায়,“এই অবস্থায় চাকরি চলে গেলে ওষুধ কেনার টাকাও থাকবে না। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাই, আমাকে বাঁচান। আমার স্ত্রী, মেয়ে রয়েছে। সোমা দাসের জন্য যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমাকেও সেই সুযোগ দেওয়া হোক। আমি দেশের জন্য পদক জিতেছি, আজ নিজের দেশে অবহেলিত।”

এই পরিস্থিতি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে—একই রোগে আক্রান্ত হয়েও কেউ চাকরি রাখতে পারেন, কেউ পারেন না কেন? ক্যানসারের মতো মরণরোগের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করছেন, তাঁদের পাশে কি দাঁড়ানো উচিত নয়?

মানবিকতা কি নির্বাচিতভাবে প্রযোজ্য? নাকি সকলের প্রতি সমানভাবে?