চলতি বছরেই হাওড়া-নয়া দিল্লি রুটে ১৬০ কিমি গতিতে ছুটবে ‘রাজধানী’, ‘বন্দে ভারত’! তৈরি হচ্ছে দেওয়াল

ভারতীয় রেল আরও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে। বিশেষ করে হাওড়া থেকে নয়া দিল্লিগামী যাত্রীদের জন্য এল এক দারুণ সুখবর। চলতি বছরেই হাওড়া-নয়া দিল্লি রুটে রাজধানী, শতাব্দী এবং বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো অত্যাধুনিক ট্রেনগুলি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারবে। এই গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে নিরাপদে ট্রেন চলাচলের জন্য রেললাইনের দু’পাশে বিশেষ দেওয়াল নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আশা করা হচ্ছে, এই সুরক্ষা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ আগামী জুনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

‘অমর উজালা’ নামক এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই গাজিয়াবাদ থেকে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ১৩২৯ কিলোমিটার রেললাইনের পাশে দেওয়াল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই দেওয়াল নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হলেই এই রুটে ট্রেনগুলির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে।

রেলওয়ের ‘মিশন রাফতার’ প্রকল্পের অধীনে, দিল্লি-হাওড়া এবং দিল্লি-মুম্বাই রুটে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরে রেল মন্ত্রকের তরফে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পরেই, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেল রুটকে অধিক নিরাপদ করার কাজ শুরু হয়েছে। অধিকাংশ স্থানেই রেললাইনের পাশে কংক্রিটের দেওয়াল তৈরি করা হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া লাগানো হয়েছে। এমনকি এক্সপ্রেসওয়ের সংলগ্ন কিছু অংশে ধাতব বিম ক্র্যাশ ব্যারিয়ারও নির্মাণ করা হয়েছে।

ওই সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তর মধ্য রেলওয়ের প্রয়াগরাজ বিভাগে দিল্লি-হাওড়া রুটের উভয় পাশে মাত্র ১৭১ কিলোমিটার দেওয়াল তৈরির কাজ বাকি রয়েছে। এই কাজটিও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে চলেছে। রেলওয়ের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ‘অমর উজালা’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বর্তমান কাজের অগ্রগতি বজায় থাকলে আগামী জুনের মধ্যেই এই নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এবং কাজ শেষ হলেই রাজধানী, শতাব্দী ও বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনগুলি দ্রুত গতিতে তাদের গন্তব্যের দিকে ছুটতে পারবে। যদিও এই রুটে এখনও পর্যন্ত বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দিল্লি-হাওড়া অথবা দিল্লি-মুম্বাই রুটে রাজধানী কিংবা বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সর্বোচ্চ ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলাচল করে। সুরক্ষা দেওয়াল তৈরির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরেই এই গতি বেড়ে ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছবে।

প্রায়শই দেখা যায়, রেললাইনে গবাদি পশু চলে আসার কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এমনকি লাইনের উপর গাড়ি বা মানুষের চলে আসার ফলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতেই রেললাইনের পাশে যেমন ক্র্যাশ ব্যারিয়ার তৈরি করা হচ্ছে, তেমনই দীর্ঘ দেওয়ালও নির্মাণ করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ যাত্রীদের সুরক্ষা এবং সময় সাশ্রয় উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।