‘আত্মহত্যা করতে চাই’, চাকরিহারা হতেই মনোবিদের কাছে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন দম্পতি

চাকরি হারালেন স্বামী অর্ণব যশ এবং স্ত্রী চন্দ্রাণী দত্ত — দু’জনেই বীরভূম জেলার দুটি পৃথক স্কুলে ভূগোল পড়াতেন। হঠাৎ একসঙ্গে কাজ হারানোর খবর চাউর হতেই এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। এরই মাঝে ঘটেছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা — হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে অর্ণবের মা মঞ্জুলা যশের। পরিবারের দাবি, ছেলে ও পুত্রবধূর চাকরি চলে যাওয়ার ধাক্কা নিতে পারেননি তিনি। মানসিক চাপেই হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মুর্শিদাবাদ থেকে আসে আরও এক হৃদয়বিদারক খবর। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের ২৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। যাঁদের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। সংসার কীভাবে চলবে, কীভাবে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বে— এসব ভাবনায় ডুবে গিয়েছে হাজার হাজার পরিবার।

এই পরিস্থিতিতে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। মনোবিদ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর ফেসবুকে লেখেন,
“ব্যস্ততার কারণে সারাদিন টিভি দেখতে পারিনি। রাত আটটার সময় এক শিক্ষক দম্পতি আমার কাছে আসেন। দু’জনেরই নাম প্যানেল থেকে বাদ গেছে।”

রঞ্জনবাবু জানান, সাত বছর আগে বিয়ে হয়েছিল ওই দম্পতির। তাঁদের পাঁচ বছরের একটি মেয়ে আছে। একসঙ্গে চাকরি হারিয়ে তাঁরা মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছেন যে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাউন্সেলিং করে তাঁদের সেই পথ থেকে ফিরিয়ে আনেন তিনি।

মনোবিদের মতে, তাঁদের সিদ্ধান্তের পেছনে যত না অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কাজ করছে, তার চেয়েও বড় কারণ সমাজে সম্মান হারানোর ভয় ও আত্মগ্লানি। তিনি আরও লেখেন—
“এই শিক্ষক দম্পতির আত্মহত্যার ইচ্ছার পেছনে অপমানিত হওয়ার যন্ত্রণাটাই বেশি। এমন মানবিক সংকটে সবাইকে পাশে দাঁড়াতে হবে। চাল আর কাঁকরের ফারাক না বুঝে সবাইকে একসঙ্গে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক নয়।”

রাজ্যের শিক্ষক সমাজের এক বড় অংশ আজ গভীর মানসিক সংকটে। শুধু রুটি-রুজির প্রশ্ন নয়, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অনির্ণেয় অন্ধকার। এই দুঃসময়ে প্রয়োজন সহানুভূতি, সমবেদনা এবং সর্বোপরি মানবিকতা।