২৭ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েও ভারতের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প সরকার, জেনেনিন কেন?

চলতি সপ্তাহেই ভারত সহ একাধিক দেশের পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক চাপিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পদক্ষেপের পরেই ভারত, ইজরায়েল ও ভিয়েতনামের প্রতিনিধিদের সাথে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনায় বসেছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দেশগুলির সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে আলোচনা করছেন। যদি এই আলোচনা ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে আগামী ৯ই এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শুল্কের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। মনে করা হচ্ছে, ভারত, ইজরায়েল ও ভিয়েতনামের সাথে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের এই আলোচনা অন্যান্য দেশের সাথেও একই ধরনের আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।

অন্যদিকে, চীন ও কানাডা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি পণ্যের উপর পালটা শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে তারা শীঘ্রই পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে। সিএনএন হোয়াইট হাউসের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, এই পালটা শুল্ক আগামী ৯ই এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে।

এই পরিস্থিতিতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন যে তিনি তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের সাথে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি দেশই শুল্ক নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলতে চায়…”। ট্রাম্প বিশেষভাবে আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভারত-এর সাথে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা ফলপ্রসূ হবে।

উল্লেখ্য, ভারত থেকে আসা পণ্যের উপর ২৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের উপর শুল্ক ধার্য করার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে তার ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে একইসাথে তার বক্তব্যে অনুযোগের সুরও শোনা যায়। ট্রাম্প বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি আমেরিকায় এসেছিলেন। তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু। কিন্তু, এই সফরে আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বলেছিলাম, আপনারা আমাদের সাথে ঠিকমতো আচরণ করছেন না। ভারত সর্বদা আমেরিকা থেকে আসা পণ্যের উপর ৫২ শতাংশ শুল্ক নেয়। সেই কারণে আমরা তাদের অর্ধেক, অর্থাৎ ২৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব।”

এখন দেখার বিষয়, ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে এই বাণিজ্য আলোচনা কোন দিকে মোড় নেয় এবং এর ফলস্বরূপ নতুন শুল্ক নীতির ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন আসে কিনা। অন্যান্য দেশগুলির সাথে আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্কও এই আলোচনার ফলাফলের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল থাকবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।