সাইবারসিকিউরিটি নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে প্রস্তুতকারকরা, জেনেনিন কেন?

বিশ্বজুড়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। সম্প্রতি গবেষণা সংস্থা এবিআই রিসার্চের এক সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, শিল্প খাতের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সাইবার নিরাপত্তাকে এখন একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই সমীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও মালয়েশিয়ার ৪৫৮টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। খবর টেকমনিটর।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশই তাদের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই প্রবণতা এমন এক সময়ে দেখা যাচ্ছে, যখন বিশ্বব্যাপী সাইবার হুমকি এবং ডেটা হারানোর বিষয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে শিল্প খাত যখন ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নেটওয়ার্ক সিস্টেমের উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তখন এই ঝুঁকি আরও প্রকট হচ্ছে। গবেষণা বলছে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সফটওয়্যার সরবরাহ চেইন আক্রমণ এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ হুমকি।

এবিআই রিসার্চের বিশিষ্ট বিশ্লেষক মাইকেল লার্নার এই প্রসঙ্গে বলেন, “২০২৪ সালের প্রথম ধাপে পরিচালিত সমীক্ষায় এই হার ছিল মাত্র ২১ দশমিক ৯ শতাংশ।” তিনি গত জুলাই মাসে ক্রাউডস্ট্রাইকের আইটি বিভ্রাটের উদাহরণ টেনে আনেন, যা সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতাগুলোকে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছিল। সেই বিভ্রাটের কারণে বিমান সংস্থা ও হাসপাতালগুলো বিপর্যস্ত হয়েছিল এবং ৮৫ লক্ষ ডিভাইস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে কোম্পানির বাজার মূল্যে ৩ হাজার কোটি ডলারের পতন ঘটে। লার্নার আরও বলেন, “ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, কারণ বিভিন্ন দেশ একে অপরের সিস্টেম বা তথ্য হ্যাক করার চেষ্টা করতে পারে অথবা সাইবার হামলা চালাতে পারে।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের মধ্যে ডিজিটাল বিকাশের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান। এক্ষেত্রে জার্মানি সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে ৮৪ শতাংশ নতুন শিল্পাঞ্চল (গ্রিনফিল্ড সাইট) আধুনিক কারখানার মানে উন্নীত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৭২ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এবং মালয়েশিয়া ৭০ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তবে পুরনো শিল্পাঞ্চলের (ব্রাউনফিল্ড সাইট) আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে মাত্র ৩১ শতাংশ সাইট আধুনিক মানে পৌঁছেছে।

এদিকে, উৎপাদনকারীদের মধ্যে প্রাইভেট ফাইভজি নেটওয়ার্কের ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। ক্লাউড কম্পিউটিংও ব্যাপকভাবে গৃহীত হচ্ছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই একমত পোষণ করেছে যে ক্লাউড প্ল্যাটফর্মগুলো দূরবর্তী পর্যবেক্ষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সরবরাহ চেইনের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা প্রদান করে।

কারখানাগুলোতে এখন জেনারেটিভ এআই বা স্বয়ংক্রিয় সমাধান তৈরির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও বাড়ছে। ৬৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করে যে এআই উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে পারে, যেমন গতি বৃদ্ধি এবং খরচ কমানো। ৭৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে এআই কর্মীদের জন্য সহজ নির্দেশিকা তৈরি করতে সহায়ক। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রে এআই ব্যবহারের গতি জার্মানি ও মালয়েশিয়ার তুলনায় কিছুটা কম।

প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, সাইবার হুমকির ঝুঁকিও তত বাড়ছে। কোনো কোম্পানির ডেটা বা উৎপাদন ব্যবস্থা হ্যাক হলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকের আস্থা নষ্ট হতে পারে। এই কারণেই বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।