বিশেষ: শনির সবচেয়ে প্রিয় এই ৪ রাশি, জাতক-জাতিকাদেড় সাড়ে সাতিও স্পর্শ করে না

জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে ন্যায়ের দেবতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কর্মফল অনুযায়ী পুরস্কৃত বা শাস্তি প্রদান করেন। ভালো কাজ করলে শনিদেবের শুভ দৃষ্টি লাভ করা যায়, তবে খারাপ কাজ করলে তাঁর কু-নজর জীবনে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক কষ্টের কারণ হতে পারে। প্রত্যেক ব্যক্তিকে জীবনে একবার শনির সাড়ে সাতি ও ঢাইয়ার সম্মুখীন হতে হয়।

তবে জ্যোতিষশাস্ত্রে এমন কিছু প্রিয় রাশির উল্লেখ রয়েছে, যাদের উপর শনিদেবের খারাপ দৃষ্টি তেমন প্রভাব ফেলে না। এমনকি শনির সাড়ে সাতি বা ঢাইয়ার প্রকোপও এই রাশিগুলির জাতক-জাতিকাদের স্পর্শ করতে পারে না। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই ভাগ্যবান রাশিগুলি কী কী:

বৃষ (২১ এপ্রিল – ২০ মে):

শুক্র গ্রহের দ্বারা শাসিত বৃষ রাশির জাতকদের সঙ্গে শনিদেবের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। মনে করা হয়, এই রাশির ব্যক্তিরা শনিদেবের বিশেষ আশীর্বাদের কারণে বিলাসবহুল জীবন, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং কর্মজীবনে সাফল্য লাভ করেন। শনিদেব বৃষ রাশির অধিবাসীদের সম্পদ, আরাম এবং সমৃদ্ধি প্রদান করেন। তারা সাধারণত কঠোর পরিশ্রমী হন এবং খুব কমই আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হন। তাদের জীবনে সফলতা স্বাভাবিকভাবেই এসে থাকে।

তুলা (২৪ সেপ্টেম্বর – ২৩ অক্টোবর):

তুলা রাশিকে জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবের শ্রেষ্ঠ রাশি হিসেবে গণ্য করা হয়। গ্রহরাজ শনি সর্বদা তুলা রাশির জাতকদের জীবনে সৌভাগ্যের বর্ষণ করেন। এর ফলে তারা স্থিতিশীলতা, প্রজ্ঞা এবং পেশাগত জীবনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। যখনই শনি বা শুক্র তুলা রাশিকে প্রভাবিত করে, এই রাশির ব্যক্তিরা ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করেন। তাদের পরিশ্রম করার মানসিকতা শনিদেবের আশীর্বাদকে আরও আকর্ষণ করে।

মকর (২২ ডিসেম্বর – ২১ জানুয়ারি):

মকর রাশি স্বয়ং শনিদেব দ্বারা শাসিত। এই কারণে এই রাশির ব্যক্তিরা স্বভাবতই সুশৃঙ্খল এবং ভাগ্যবান হন। তাদের ধৈর্য এবং একাগ্রতা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের পথে চালিত করে। মকর রাশির জাতকদের মধ্যে একটি শক্তিশালী কর্মনিষ্ঠা দেখা যায়। তারা নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে এবং শনিদেবের কৃপায় তুলনামূলকভাবে কম বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হয়ে উচ্চ পদ লাভ করে।

কুম্ভ (২২ জানুয়ারি – ১৯ ফেব্রুয়ারি):

কুম্ভ রাশিও শনিদেব দ্বারা শাসিত এবং এই রাশির ব্যক্তিরাও সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি লাভ করেন। তাদের বুদ্ধিমত্তা, অধ্যবসায় এবং প্রজ্ঞা জীবনে সাফল্য নিয়ে আসে। কুম্ভ রাশির জাতকরা স্বাধীন চিন্তাবিদ হন এবং উদ্ভাবনী কাজের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেন। শনিদেবের আশীর্বাদ তাদের জীবনের বাধাগুলিকে অতিক্রম করতে সাহায্য করে এবং তাদের নেতা ও স্বপ্নদর্শী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

**(Disclaimer: এখানে দেওয়া তথ্য সাধারণ অনুমান এবং তথ্যের উপর ভিত্তি করে। ব্যক্তিভেদে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।) **