ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার দম্পত্তির ঝুলন্ত দেহ! রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে চাঞ্চল্য

ট্যাংরার ছায়া যেন আবারও শহরের বুকে। পূর্ব যাদবপুর থানার মুকুন্দপুর এলাকায় এক দম্পতির রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁদের ফ্ল্যাট থেকে স্বামী ও স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, একইসঙ্গে দানা বেঁধেছে রহস্য।

পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ খবর পেয়ে মুকুন্দপুরের ওই ফ্ল্যাটে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানে ডাইনিং হলের সিলিং ফ্যান থেকে ৬৬ বছর বয়সী দুলাল পালের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। একইসঙ্গে, বেডরুমের ফ্যান থেকে উদ্ধার হয় ৫৩ বছর বয়সী রেখা পালের দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ফ্ল্যাট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে, সেই নোটে কী লেখা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি পুলিশ।

ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না দুলাল পাল ও রেখা পালের ছেলে এবং পুত্রবধূ। এই পরিস্থিতিতে মৃত দম্পতির মেয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর দাদা ও বৌদি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বাবা-মায়ের উপর অত্যাচার চালাতেন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, হয় তাঁর দাদাই ও বৌদি তাঁদের বাবা-মাকে খুন করেছেন, অথবা এমন অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন যার ফলে তাঁরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ফ্ল্যাটটি সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে, এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্টের জন্য তারা অপেক্ষা করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

এই ঘটনায় মুকুন্দপুর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্তম্ভিত এবং শোকাহত। সকলের একটাই প্রশ্ন, কেন এমন মর্মান্তিক পরিণতি হল প্রবীণ এই দম্পতির? পুলিশের তদন্তের দিকেই এখন সকলের নজর।