‘হাতি চলে বাজার, তো কুত্তা ভোকে হাজার’, সমালোচকদের কড়া বার্তা কুণাল ঘোষের

সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের সরব তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি একটি পোস্টের মাধ্যমে সেই সকল সমালোচক এবং নেটিজেনদের কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন, যাঁরা নিয়মিত তাঁর পোস্টগুলিতে কুরুচিপূর্ণ ও একঘেয়ে মন্তব্য করে থাকেন বলে অভিযোগ।

নিজের ফেসবুক ওয়ালে কুণাল ঘোষ লেখেন, ‘এই পোস্ট সুস্থ স্বাভাবিকদের জন্য নয়। যে ক’জন আমার পোস্ট দিনরাত নজর রাখে; নানা ঈর্ষা বা হতাশা উগরে রুচিহীন একঘেয়ে মন্তব্য করে; যারা বিপুল সময় ও শক্তি খরচ করে নানা পুরনো ভিডিও খোঁজে বা নতুন গ্রাফিক্স তৈরি করে; তাদের প্রত্যেককে এই নিষ্ঠাবান আনুগত্যের জন্য আমার ধন্যবাদ। আপনারা যা করছেন, সেটা চালিয়ে যান এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমি আমার মত চলতে থাকি। আপনাদের কাজকর্মই প্রমাণ করে দিতে থাকবে, কথাটা ঠিক: হাতি চলে বাজার, তো কুত্তা ভোকে হাজার। জয় গুরু।’

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কুণাল ঘোষের এই পোস্ট মূলত সেই অংশের মানুষদের উদ্দেশ্য করে লেখা, যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপের উপর নজর রাখেন এবং বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করে তাঁকে বিব্রত করার চেষ্টা করেন। বিশেষত, তাঁর পুরনো ভিডিও বা গ্রাফিক্স খুঁজে এনে কুমন্তব্য করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধীপক্ষের সমালোচনায় কুণাল ঘোষের বাগ্মিতা সুবিদিত। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কোনো পোস্ট করা মাত্রই নেটিজেনদের একাংশ পুরনো প্রসঙ্গ টেনে এনে তাঁকে আক্রমণ করতে উদ্যত হন। বহু ক্ষেত্রেই সেই মন্তব্যগুলি ‘রুচিহীন একঘেয়ে’ পর্যায়ে চলে যায় বলে অভিযোগ। দীর্ঘ দিন ধরে এই ধরনের আক্রমণের শিকার হওয়ার পরই কুণাল ঘোষ এদিন মুখ খুললেন বলে মনে করা হচ্ছে।

পোস্টের শেষ অংশে কুণাল ঘোষের লেখা ‘হাতি চলে বাজার, তো কুত্তা ভোকে হাজার’ এই প্রবাদটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। এই দুটি শব্দের মাধ্যমে তিনি ঠিক কাদের বা কোন গোষ্ঠীকে নিশানা করেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে বিক্ষোভকারীদের প্রসঙ্গেও কুণাল ঘোষ একই প্রবাদ ব্যবহার করেছিলেন। সেখানে তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘বাঁদরামি’ আখ্যা দিয়ে লিখেছিলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সসম্মানে পুরো কর্মসূচি করেছেন। সফলভাবে করেছেন। হাতি চলে বাজার, …. আবার প্রমাণিত।’

বারবার একই প্রবাদের ব্যবহার থেকে মনে করা হচ্ছে, কুণাল ঘোষ সম্ভবত একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা মানসিকতার সমালোচকদের উদ্দেশ্য করেই এই মন্তব্য করছেন। তবে তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করায় ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।

কুণাল ঘোষের এই পোস্ট ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে যেমন তাঁর অনুগামীরা এই কড়া বার্তার সমর্থন জানাচ্ছেন, তেমনই সমালোচকদের একাংশ এর পাল্টা সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। তবে কুণাল ঘোষের এই আক্রমণাত্মক পোস্ট রাজ্য রাজনীতির সোশ্যাল মিডিয়া পরিসরে যে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করল, তা বলাই বাহুল্য।