US-তে পারমাণবিক অস্ত্র হামলা? ‘বোমা’ বিস্ফোরণের হুমকি ট্রাম্পের, পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের উপর বোমা হামলার হুমকি দেন যদি ইরান পরমাণু চুক্তি সই না করে। তার এই হুমকির পর, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেই পাল্টা হুমকি দিয়েছেন, জানিয়ে দিয়েছেন যে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপর একটাও বোমা ফেলে, তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর।
ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি ইরান পরমাণু চুক্তি মেনে না চলে, তবে ইরানের উপর এমন এক ধরনের বোমা হামলা হবে যা এর আগে কেউ কখনো দেখেনি। তবে, পরে তিনি হুমকির সুর কিছুটা নরম করে বলেন যে, তারা চুক্তি না মেনে চললে ইরানকে বিপুল পরিমাণ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ইরান পাল্টা সাড়া দিয়ে জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা রয়েছে এবং তারা তাদের হুমকির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয় না। তবে, যদি তারা কোনো আক্রমণের চেষ্টা করে, তবে ইরান তার সমুচিত প্রতিক্রিয়া জানাবে। খামেনেই আরও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের উপর একটাও বোমা ফেললে তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর।”
এদিকে, খামেনির উপদেষ্টা আলি লারিজানি জানান, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে এগোচ্ছেনা, তবে ট্রাম্প যদি ভুল করেন এবং ইরানকে আক্রমণ করে, তাহলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহের পথে যেতে বাধ্য হবে, শুধুমাত্র নিজেদের রক্ষা করার জন্য।
এছাড়া, ট্রাম্পের হুমকির পর, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরকচি জানান, তারা সরাসরি কোনো আলোচনায় যোগ দেবেন না যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাপ সৃষ্টি করে। তবে পরোক্ষ আলোচনার পথ খোলা রয়েছে।
এর আগে, ট্রাম্পের পদক্ষেপে ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যায়, যা ২০১৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অধীনে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর পর, জো বাইডেনের প্রেসিডেন্সির সময়ে নতুন করে পরমাণু চুক্তির আলোচনার চেষ্টা করা হলেও, ট্রাম্পের পুনরায় কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে, ইরানের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানও তার মিত্র দেশগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে।