“পরমাণু বোমা ছাড়া উপায় দেখছি না”-ইরানের চড়ম হুঁশিয়ারি এবার আমেরিকাকে

বিশ্ব কি ফের এক ভয়াবহ পরমাণু যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘাতের আবহে এবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি লারিজানি সোমবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যদি আমেরিকা অথবা তাদের মিত্র দেশগুলি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে আত্মরক্ষার জন্য পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লারিজানি বলেন, “আমরা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছি না। কিন্তু যদি আমাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে আত্মরক্ষার জন্য আমাদের সেই পথেই হাঁটতে হবে।” তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে না আনলে বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়েছেন। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “ইরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে বোমা পড়বে।”
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিও পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি না তারা সত্যিই হামলা করবে। কিন্তু যদি কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ করে, তবে তারা উপযুক্ত প্রতিশোধ পাবে।”
শুধু তাই নয়, ইরানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র তেহরান টাইমস জানিয়েছে, দেশটি তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিকে ‘তৎপর অবস্থায়’ রেখেছে। পত্রিকাটি দাবি করেছে, যদি কোনো হামলা হয়, তবে ‘যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুতে’ পাল্টা আঘাত হানার জন্য ইরান সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইরানের প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে একটি চিঠিতে মার্কিন হুমকিকে ‘যুদ্ধ উসকে দেওয়ার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তার দোসর ইসরাইল যদি কোনো হামলা চালায়, তাহলে ইরান দ্রুত এবং কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে।”
এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের আশা কতটা ক্ষীণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে তারা ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না। অন্যদিকে, ইরানও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা আলোচনায় ভয় পাই না। কিন্তু অতীতে তারা আমাদের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।” ওয়াশিংটনও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরান যদি পরমাণু চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে তাকে খারাপ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে উভয় পক্ষই একে অপরের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে যেভাবে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে, তাতে বিশ্ব রাজনীতি এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘাতের মধ্যেই ইরান ও আমেরিকার এই তীব্র উত্তেজনা বিশ্বকে আরও এক সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।