পাথরপ্রতিমায় ভয়াবহ বিস্ফোরনের ঘটনায়, ‘অদক্ষ পুলিশ মন্ত্রী’ বলে মমতাকে তোপ শুভেন্দুর!

দক্ষিণ ২৪ পরগণার পাথরপ্রতিমায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন বণিক পরিবারের আট সদস্য, তাদের মধ্যে চার শিশু। সোমবার গভীর রাতে পাথরপ্রতিমার একটি বোমা তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে, যা কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। ঘটনাটি ঘটেছে ঠিক ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ কল্যাণী বাজি কারখানায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের মাত্র দুই মাস পর। কল্যাণী ঘটনার পরপরই এই আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপির দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি পাথরপ্রতিমার বিস্ফোরণের কিছু ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, “৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর কল্যাণী বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটার পর ২ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ! ভূপতিনগর, বজবজ, এগরা, কল্যাণী—এতগুলি ঘটনা ঘটেছে এবং আরও কত দুর্ঘটনা ঘটবে তার কোন জবাব নেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে।”
শুভেন্দু অধিকারী এও দাবি করেন যে, মঙ্গলবার হয়তো নিহতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হবে, কিন্তু তারপরও মূল প্রশ্ন রয়ে যায়—কেন বারবার এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে, এবং এর দায় কী শুধু অদক্ষ পুলিশ মন্ত্রীর?
এই বিস্ফোরণ নিয়ে শোরগোল তুলেছেন রাজ্য বিজেপির আরও একাধিক নেতা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার প্রশ্ন তুলেছেন, “তৃণমূল সরকারের মদতে অবৈধ বোমা কারখানাগুলির এত রমরমা কেন?” তিনি আরও বলেন, “সরকার এসবের মাধ্যমে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে, বিশেষ করে ভোট আসছে।”
বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এনআইএ তদন্তের দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “এটা নির্বাচনী পরিস্থিতি তৈরি করতে সরকার চাইছে এবং বাজির নামে বোমা কারখানাগুলি চালাচ্ছে।”
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তৃণমূল সরকারের একাধিক অবহেলা এবং অদক্ষতার কারণে এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নেই।”
এদিকে, সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়ে এই ঘটনায় পর্যাপ্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার এই বিস্ফোরণের তদন্তে কতটা দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয় কিনা।