বিশেষ: প্লেনে ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করে কেন? জেনেনিন মূল কারণ?

বিমানে ওঠার আগে আমাদের সকলেরই ফোনটিকে অ্যারোপ্লেন মোডে রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু কেন এই নিয়ম? বেশিরভাগ যাত্রীই হয়তো এর পেছনের আসল কারণ জানেন না। বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনে অ্যারোপ্লেন মোড সক্রিয় করার প্রধান প্রযুক্তিগত কারণ হলো মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিও সংকেত। এই সংকেত বিমানের ন্যাভিগেশন সিস্টেম, উড্ডয়ন ও অবতরণের পথে এবং সাধারণভাবে বিমান চলাচলের সময় হস্তক্ষেপ ঘটাতে পারে। বিমানের বিভিন্ন সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সঠিকভাবে কাজ করার জন্য এই রেডিও তরঙ্গের প্রভাবমুক্ত থাকা জরুরি। অ্যারোপ্লেন মোড চালু করলে ফোনের সমস্ত ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন যেমন সেলুলার, ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে এই হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমে যায়।
প্লেনে ফোনকে অ্যারোপ্লেন মোডে রাখার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাগুন এভিয়েশন কনসাল্টিং’-এর পাইলট রস সাগুন এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, “প্লেনের ক্রুরা সত্যিই চান যে যাত্রীরা যেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, বিশেষ করে প্লেনের উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় মনোযোগী হন। যাত্রীরা যদি তাদের মোবাইল ফোনে কথা বলেন এবং সেই সময় কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।” নিরাপত্তা এবং জরুরি অবস্থার মোকাবিলার জন্য যাত্রীদের সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি, এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহার সেই মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
প্লেনে অ্যারোপ্লেন মোড চালু না করলে কী হতে পারে?
যদিও অনেক উঁচুতে সাধারণত কোনো সেলুলার সিগন্যাল পাওয়া যায় না, তবুও যাত্রীদের ফোন ক্রমাগত কাছাকাছি কোনো নেটওয়ার্কের সন্ধানে চেষ্টা করতে থাকে। এই প্রক্রিয়া পাইলটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। রস সাগুন ব্যাখ্যা করেন, “তবে ৭০, ৮০ বা ১৫০ জন যাত্রী যখন একটি প্লেন নিয়ে আকাশে ওড়ে, তখন যদি তিন বা চারজন যাত্রীর ফোনও চালু থাকে, সেগুলি প্লেনের আশেপাশে রেডিও টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা শুরু করবে। এর ফলে কাছাকাছি রেডিও টাওয়ারগুলিও রেডিও তরঙ্গ পাঠাতে শুরু করবে। এই রেডিও তরঙ্গ পাইলটদের ব্যবহৃত হেডসেটের রেডিও তরঙ্গে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা থাকে।”
তবে, অ্যারোপ্লেন মোড চালু করার কথা ভুলে গেলেও যাত্রীদের স্মার্টফোনটির মারাত্মক কোনো ক্ষতি বা প্লেন ক্র্যাশ হওয়ার ঝুঁকি একেবারেই কম। মূল উদ্বেগের বিষয় হলো পাইলটদের যোগাযোগ এবং বিমানের ন্যাভিগেশন সিস্টেমে সম্ভাব্য ব্যাঘাত।
অন্যদিকে, আধুনিক ফাইভ জি নেটওয়ার্ক এবং বিশেষভাবে তৈরি কিছু প্রযুক্তি আসার ফলে কিছু এয়ারলাইনস কোম্পানি ইতিমধ্যেই যাত্রীদের প্লেনের মধ্যে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রদান করছে যা পাইলটদের কাজে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাজ্যের ফ্লাইটেও একই ধরনের প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে অনেক ফ্লাইটে ওয়াই-ফাই পরিষেবাও পাওয়া যায়, যা বিমানের নিজস্ব যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং বিমানের ইলেকট্রনিক সিস্টেমের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
অতএব, যদিও প্লেনে ফোন চালু রাখলে সঙ্গে সঙ্গে প্লেন ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই, বিমানের নিরাপত্তা এবং পাইলটদের নির্বিঘ্ন যোগাযোগের স্বার্থে প্লেনে ওঠার আগে ফোনটিকে অ্যারোপ্লেন মোডে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বপূর্ণ আচরণ।