রাষ্ট্রপতির শাসন সত্ত্বেও মণিপুরে অশান্তি অব্যাহত, আরও ছয় মাস বাড়ানো হল আফস্পার মেয়াদ

মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার পরেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায়, কেন্দ্রীয় সরকার উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে বিতর্কিত সশস্ত্র বাহিনী (বিশেষ ক্ষমতা) আইন, ১৯৫৮ (AFSPA)-এর মেয়াদ আরও ছয় মাসের জন্য বাড়িয়েছে। শুধু মণিপুরই নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অরুণাচল প্রদেশ এবং নাগাল্যান্ডের কিছু অংশেও এই আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের তিরপ, চাংলাং এবং লংডিং জেলা এবং রাজ্যের তিনটি থানা এলাকায় আগামী ছয় মাসের জন্য ‘আফস্পা’ বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, মণিপুরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং পদত্যাগ করলে রাজ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দেয় এবং বিধানসভা স্থগিত রাখা হয়। তবে কেন্দ্রের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও অশান্ত মণিপুরের আইনশৃঙ্খলার তেমন উন্নতি ঘটেনি। এই পরিস্থিতিতে ফের সেনার বিশেষ ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানো হল।
জানা যায়, ১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকে মণিপুরে ‘আফস্পা’ কার্যকর রয়েছে। এই আইন “অশান্ত এলাকায়” শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে। তবে এই আইন বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচিতও হয়েছে। তা সত্ত্বেও, মণিপুরে শান্তি ফেরাতে কেন্দ্র ফের আফস্পার উপরেই ভরসা রেখেছে।
এদিকে, সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, শনিবার মণিপুরের পার্বত্য ও উপত্যকা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান চালায়। অভিযানে বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। ইম্ফল পুলিশের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চূড়াচাঁদপুর জেলার চূড়াচাঁদপুর থানার থাংজিং পাহাড়ের জঙ্গল থেকে একটি দেশি রাইফেল, একটি বোল্ট অ্যাকশন রাইফেল, একটি .২২ পিস্তল, একটি দেশি মর্টার, একটি হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি হেলমেট, একটি ওয়্যারলেস সেট, একটি ওয়্যারলেস সেট চার্জার, একটি এইচ.ই. বোমা, দশটি ৫.৫৬ মিমি লাইভ রাউন্ড, বারোটি ৭.৬২x৩৯ খালি খোল, চারটি ৭.৬২x৪৫ মিমি খালি খোল এবং ৫০০ গ্রাম গান পাউডার উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সাল থেকে মণিপুরে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এন বীরেন সিং। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া কুকি ও মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষে প্রায় ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার পরেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হলেও, এখনও পর্যন্ত শান্তি ফেরেনি।