“পালিয়ে বিয়ে করলো কেন…?”-রেগে গিয়ে জীবিত মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেট বের করলেন বাবা

প্রেম করে বিয়ে করায় মেয়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এক বাবা তাঁকে ‘মৃত’ ঘোষণা করলেন। শুধু তাই নয়, বিহারের মুঙ্গের জেলার হাভেলি খড়গপুরে এই ঘটনায় জীবিত মেয়ের নামে ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ পর্যন্ত ইস্যু করা হয়েছে। এই অভাবনীয় কাণ্ডের শিকার তরুণী সঞ্জনা কুমারী এখন জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে সরকারি দপ্তর ও ব্যাঙ্কে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর হাভেলি খড়গপুরের এসডিএম রাজীব রোশন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিয়ের পরই ‘মৃত’ ঘোষিত তরুণী
সঞ্জনা কুমারী হাভেলি খড়গপুরের সিংহপুর মহল্লার বাসিন্দা সতন বিন্দের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে দিল্লিতে থাকার সময় তাঁর পরিচয় হয় একই এলাকার মহকোলা গ্রামের নবল কিশোর বিন্দের ছেলে আনন্দ কুমারের সঙ্গে। বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে পরিবারের অমতে ২৭ অক্টোবর ২০২৪-এ তাঁরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরদিন, ২৮ অক্টোবর, দিল্লির রোহিণী আদালতে তাঁরা বিয়ে করেন।
কিন্তু বিয়ের পরপরই সঞ্জনার জীবনে নেমে আসে অদ্ভুত বিপর্যয়। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, হাভেলি খড়গপুর পৌরসভা তাঁর নামে একটি ডেথ সার্টিফিকেট জারি করেছে। পৌরসভায় গিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়—তাঁর বাবা সতন বিন্দ বিয়ের দিনই তাঁকে ‘মৃত’ বলে শংসাপত্র তৈরি করেছেন। এমনকি নথিতে তাঁর মৃতদেহের একটি ভুয়ো ছবিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
জীবিত থাকার প্রমাণে দ্বারে দ্বারে
এই ঘটনার পর সঞ্জনা ন্যায়ের আশায় এসডিএম রাজীব রোশনের কাছে আবেদন জানান। তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণ সুস্থ, আমার কোনও রোগ নেই। কিন্তু বাবার ষড়যন্ত্রে আমি কাগজে-কলমে মৃত। আমি জীবিত, আমার বিচার চাই।” ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালু করা থেকে শুরু করে অন্যান্য আইনি কাজের জন্য তাঁকে এখন বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে।
স্বামীর ক্ষোভ: দোষীদের শাস্তির দাবি
সঞ্জনার স্বামী আনন্দ কুমার বলেন, “২০২৪ সালে আমি সঞ্জনাকে বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মৃত দেখিয়ে শংসাপত্র জারি করা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রে একাধিক কর্মচারী ও আধিকারিক জড়িত। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং আমার স্ত্রীর মৃত্যুর শংসাপত্র বাতিল করে তাঁকে জীবিত প্রমাণ করা হোক।”
এসডিএমের আশ্বাস
হাভেলি খড়গপুরের এসডিএম রাজীব রোশন জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “পৌরসভা থেকে তরুণীর নামে মৃত্যু শংসাপত্র জারি করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, তরুণীর বাবা ভুল তথ্য দিয়ে এটি তৈরি করেছেন। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সমাজে প্রতিক্রিয়া
ভারতীয় সমাজে প্রেম করে বিয়ে করলে পরিবারের বিরোধিতা নতুন নয়। কিন্তু জীবিত সন্তানের মৃত্যু শংসাপত্র তৈরি করা এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এই কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সঞ্জনার আইনি লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে সবার।