চিনা ঋণে সুদের হার থেকে জল সম্পদ..! ইউনুস-জিনপিং বৈঠকে কী কী উঠে এল? বিস্তারিত জেনেনিন

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সাম্প্রতিক চিন সফর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বহু প্রতীক্ষিত এই সফরে ইউনুস ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি মুখোমুখি সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই সফরের সময় চিন ও বাংলাদেশের মধ্যে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, চিনা ঋণের সুদের হার এবং বিনিয়োগ সম্পর্কিত আলোচনা উঠে আসে।
চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশি আম ও কাঁঠালের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের প্রতি বেজিংয়ের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, চিনের তরফে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ দাবি করেছে, চিনের ঋণের সুদের হার কমানোর জন্য আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। এ ছাড়া, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
শফিকুল আলম তাঁর পোস্টে আরও জানিয়েছেন, “আলোচনাটি ছিল ব্যাপক, ফলপ্রসূ এবং গঠনমূলক। প্রেসিডেন্ট শি, প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি চিনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।” তিনি বলেন, এটি ছিল ইউনুসের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর এবং এটি একটি সফল সফর হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
বিনিয়োগ ও চিনা উৎপাদন ক্ষেত্রের স্থানান্তরের বিষয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। শি জিনপিং বলেন, চিন বাংলাদেশে চিনা বিনিয়োগ এবং উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্থানান্তর করতে উৎসাহিত করবে। এছাড়া, ইউনুসের সঙ্গে হালকা মেজাজে আলোচনা চলাকালীন, শি জিনপিং বাংলাদেশের কাঁঠাল ও আমের সুস্বাদু হওয়ার কথা বলেন। তিনি জানান, তিনি নিজে এই ফল দুটি খেয়েছেন এবং খুবই সুস্বাদু লেগেছে। বাংলাদেশের তরফে জানানো হয়েছে যে, শীঘ্রই এই দুই ফল চিনে রপ্তানি শুরু হবে।
এমনকি, শি জিনপিং ইউনুসকে স্মরণ করেন যখন তিনি ফুজিয়ান প্রদেশের গর্ভনর ছিলেন এবং “মাইক্রো ক্রেডিট” নিয়ে তাঁর কাজের কথা উল্লেখ করেন। এভাবে, ইউনুসের চিন সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।