“ঔরঙ্গাবাদ হবে লক্ষ্মীনগর-খালিসপুরা হবে ব্রহ্মতীর্থ!”-বারাণসীতে মুসলিম এলাকার নাম পরিবর্তনের দাবি

দেশজুড়ে ঔরঙ্গজেবকে নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বারাণসীর একাধিক হিন্দু সংগঠন মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার নাম পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। এই দাবির প্রেক্ষিতে বারাণসী পুরসভা এখন এই বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। আগামী বৃহস্পতিবার পুরসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। জগৎগুরু রামভদ্রাচার্যও সম্প্রতি বারাণসী সফরে এসে কাশীর মুসলিম এলাকার নাম পরিবর্তনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।

কী নিয়ে আলোচনা?

বারাণসী শহরের মধ্যে অবস্থিত ঔরঙ্গবাদ মহল্লার নাম পরিবর্তন করে ‘লক্ষ্মীনগর’ বা ‘নারায়ণী ধাম নগর’ করার প্রস্তাব উঠেছে। গত ২০ মার্চ বিশ্ব বৈদিক সনাতন ন্যাসের পক্ষ থেকে এই দাবিতে পুর কমিশনারের কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়। এছাড়া, ২৪ মার্চ কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে জগৎগুরু রামভদ্রাচার্য বলেন, “কাশীতে এমন অনেক এলাকা আছে, যেগুলোর নাম মুঘল আক্রমণকারীদের নামে রাখা হয়েছে। এগুলোর নাম পরিবর্তন করতে হবে।” তিনি আরও জানান, “মোদীজি আমার ভালো বন্ধু, আমি তাঁকে এ বিষয়ে বলব।”

সংগঠনগুলোর দাবি

সনাতন রক্ষক দলের রাজ্য সভাপতি অজয় শর্মা একাধিক এলাকার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মদনপুর গোল চবুতরের নাম ‘সিদ্ধপীঠ’ বা ‘সিদ্ধ মহল’, খালিসপুরার নাম ‘ব্রহ্মেশ্বর মহল’ বা ‘ব্রহ্মতীর্থ’, গোলগড্ডার নাম ‘বিশ্বকর্মা নগর’ বা ‘বিশ্বকর্মা তীর্থ’, পিলি কোঠির নাম ‘স্বর্ণতীর্থ’, কাজাকপুরা/সারাইয়ার নাম ‘আনারস তীর্থ’, আম্বিয়া মান্ডির নাম ‘অমরেশ্বর তীর্থ’ এবং চৌখাম্ভের নথিতে মুসলিম নাম ‘আমিরচাঁদ’ পরিবর্তন করা উচিত।” তিনি জানান, কাশীতে ৫০টিরও বেশি এলাকার নাম মুসলিম নামে রাখা হয়েছে, যেগুলো পরিবর্তনের দাবি তাঁরা তুলেছেন। এই দাবি নিয়ে পুরসভার মেয়রের কাছেও একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে।

পুরসভার প্রতিক্রিয়া

পুরসভার আধিকারিক সন্দীপ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, “কিছু সংগঠন এলাকার নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছে। বৃহস্পতিবারের সভায় এই বিষয়ে আলোচনা হবে।” তিনি আরও বলেন, এই প্রস্তাবের সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিতর্কের পটভূমি

এই দাবি উঠেছে এমন এক সময়ে, যখন দেশজুড়ে ঔরঙ্গজেবের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক চলছে। হিন্দু সংগঠনগুলোর মতে, মুঘল শাসকদের নামে নামকরণ করা এলাকাগুলো কাশীর সনাতনী পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আগামীর দিকে

বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর এই বিষয়ে পুরসভা কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে সকলের নজর রয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বারাণসীর অনেক এলাকার নাম ও পরিচয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এটি নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।