OMG! ডাইনি সন্দেহে শাশুড়িকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, গ্রেফতার হলেন বৌমা ও তার আত্মীয়

ডাইনি সন্দেহে এক বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার মর্মান্তিক ঘটনায় উত্তাল মালদার ইংরেজবাজার ব্লক। যদুপুর-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের জোহরাতলা গোবিন্দপুর এলাকায় ওই মহিলাকে জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর জখম হয়েছেন। পুলিশ ঘটনায় বৌমা ও এক আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করেছে।

কী ঘটেছিল?

আক্রান্ত মহিলার বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। তাঁর অভিযোগ, কয়েক বছর আগে অসুস্থতায় তাঁর দুই ছেলের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই তাঁর অপর ছেলের বৌমা তাঁকে “ডাইনি” আখ্যা দিয়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায়। বুধবার রাতে বৌমা ও এক আত্মীয় মিলে তাঁকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। মহিলার চিৎকার শুনে পাড়ার লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশি তদন্ত ও গ্রেপ্তার

মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইংরেজবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে বৌমা ও এক আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করে। তবে মহিলার ছেলের দাবি, “এটা পারিবারিক কলহের ফল। মাকে ডাইনি বলা বা আক্রমণের পিছনে অন্য কারণ থাকতে পারে।”

সমাজের অন্ধবিশ্বাস ও প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। “পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ”-এর মালদা শাখার সভাপতি সুনীল দাস বলেন, “ডাইনি সন্দেহে হিংসার বেশিরভাগ ঘটনার পিছনে জমি বা সম্পত্তির দ্বন্দ্ব থাকে। তবে এ ধরনের কুসংস্কার এখনও গ্রামীণ সমাজে রয়ে গেছে।” তিনি প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানান।

প্রশাসনের বক্তব্য

মালদা পুলিশ সুপার সূর্যকান্ত শর্মা বলেন, “অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ডাইনি সন্দেহে হত্যাচেষ্টার মতো ঘটনায় কঠোর শাস্তি হবে।”

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ডাইনি সন্দেহে নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষা ও আইনি সচেতনতা ছাড়া এই কুপ্রথা রোধ করা সম্ভব নয়।