অভিনয় ছাড়তে চেয়েছিলেন অভিষেক, ছেলের ক্যারিয়ার যেভাবে সামলেছিলেন বাবা অমিতাভ

বাবা অমিতাভ বচ্চনের খ্যাতির ছায়ায় বড় হওয়া অভিনেতা অভিষেক বচ্চন একসময় সিনেমা জগৎ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। লাগাতার ব্যর্থতার যন্ত্রণা আর সহ্য করতে না পেরে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সেই কঠিন সময়ে বাবা অমিতাভ তাকে শুধু পিতা হিসেবে নয়, একজন সহঅভিনেতা হিসেবেও পাশে দাঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছিলেন। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে তাঁর নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘বি হ্যাপি’-এর একটি অনুষ্ঠানে অভিষেক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সংগ্রাম ও বাবার অবদানের কথা খোলাখুলি শেয়ার করেছেন।
তারকা সন্তান হওয়ার চাপ
তারকা পরিবারের সন্তান হওয়া যে সহজ নয়, তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন অভিষেক। ২০০০ সালে প্রথম ছবি ‘রিফিউজি’ মুক্তির আগে থেকেই তাঁকে শুনতে হয়েছে—‘যোগ্য পিতার অযোগ্য সন্তান’, ‘বাবার নাম ভাঙিয়ে খান’, ‘চাইলেই সেরা হওয়া যায় না’। সমালোচনার তির তাঁর দিকে বারবার ছোঁড়া হয়েছে, যা তাঁর মানসিক অবস্থাকে ভঙ্গুর করে তুলেছিল। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক নয়নদীপ রক্ষিতের সঙ্গে কথোপকথনে অভিষেক বলেন, “ক্যারিয়ারের শুরুতে যতই চেষ্টা করি না কেন, যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, তা পারিনি। নিজের জন্য যে মানদণ্ড ঠিক করেছিলাম, তাতে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছি।”
অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত
এই ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে একসময় অভিষেক অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তিনি বলেন, “মনে পড়ে, এক রাতে বাবার কাছে গিয়ে বলেছিলাম, আমি বোধহয় ভুল পেশা বেছে নিয়েছি। যে কাজে হাত দিচ্ছি, তা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। আমার মনে হয়, অভিনয় আমার জন্য নয়, এবার সরে দাঁড়ানো উচিত।” এই কথা শুনে অমিতাভ ছেলের পাশে দাঁড়ান এবং তাঁর সিদ্ধান্ত বদলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অমিতাভের প্রেরণা
অভিষেকের মনোবল ফিরিয়ে আনতে অমিতাভ তাঁর সঙ্গে বাবা হিসেবে নয়, একজন সহঅভিনেতা হিসেবে কথা বলেন। অভিষেক স্মরণ করেন, “বাবা বললেন, ‘একজন সহঅভিনেতা হিসেবে বলছি, তোমার এখনও অনেক পথ বাকি। প্রতিটি কাজে নতুন করে শুরু করতে হবে। তবেই উন্নতি করতে পারবে। আমি কখনো চাই না তুমি মাঝপথে হাল ছেড়ে দাও। ত্যাগী হতে বলছি না, লড়াই চালিয়ে যাও। সাফল্য তোমার কাছে আসবেই।’ বাবার এই কথাগুলো আমার কাছে বেদবাক্যের মতো।” এই প্রেরণার পর থেকে অভিষেক ব্যর্থতাকে সাফল্যের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং সামনে এগিয়ে চলেছেন।
পারিবারিক সমর্থনের গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে অভিষেক পারিবারিক সমর্থনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাবা-মায়ের কাছ থেকেই প্রথম সমর্থন আসে। তারা সন্তানের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়ান। কখনো কখনো এই মনোভাব পরিস্থিতিকে নেতিবাচক করে তুলতে পারে, তবে তাদের সমর্থনের ওপর ভরসা রাখতে হবে।” নিজের মেয়ে আরাধ্যা বচ্চনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “আজ আমার মেয়ে যদি আমার কাছে আসে, আমি হয়তো জানি না সে কী করতে চায়। কিন্তু তার বিশ্বাসে দৃঢ়তা দেখলে আমি বলব, সে যা চায়, তা সে পারবে।”
‘বি হ্যাপি’ ও নতুন শুরু
রেমো ডি’সুজা পরিচালিত অভিষেকের নতুন ছবি ‘বি হ্যাপি’ গত ১৪ মার্চ ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। এই ছবিতে তিনি একজন একক পিতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি মেয়ের স্বপ্নপূরণে নিজের জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন। নোরা ফাতেহি ও ইনায়েত বর্মার সঙ্গে এই ছবিতে অভিষেকের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বাবার প্রেরণা তাঁকে আজও এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে।
অভিষেকের এই গল্প শুধু তাঁর সংগ্রামের কথাই নয়, বরং পারিবারিক সমর্থনের শক্তি এবং হাল না ছাড়ার মনোভাবের একটি জীবন্ত উদাহরণ। ‘বি হ্যাপি’ তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় হিসেবে দর্শকদের কাছে এসেছে, যেখানে তিনি নিজের অভিনয় দিয়ে আবারও প্রমাণ করছেন—লড়াই করলে সাফল্য আসবেই।