কলকাতায় ভুয়ো আয়কর অফিসার সেজে লুটপাট, সিআইএসএফ জওয়ানসহ ৭ জন গ্রেফতার

কলকাতার চিনার পার্ক এলাকার একটি প্রমোটারের বাড়িতে গভীর রাতে ভুয়ো আয়কর অফিসার সেজে লুটপাট চালানোর ঘটনা সামনে এসেছে। সিআইএসএফের জওয়ানরা এই অপকর্মে যুক্ত ছিলেন। তাদের হাতে লুট হয়ে গেছে লক্ষাধিক নগদ টাকা এবং বেশ কয়েক ভরি সোনার গয়না। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে সিআইএসএফের ইনস্পেক্টর, কনস্টেবল এবং প্রমোটারের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীও রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ: গত ১৮ মার্চ, রাত ২টা নাগাদ, চিনার পার্কের প্রমোটার এসকে সিংয়ের বাড়িতে ভুয়ো আয়কর অফিসারের দল হানা দেয়। দরজায় হঠাৎ ধাক্কার শব্দ শুনে, এসকে সিংয়ের বাড়ির মহিলা দরজা খুললে কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা নিজেদের আয়কর অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন কিছু কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরা সিআইএসএফ জওয়ান। এরপর তারা বাড়ির সব সদস্যের ফোন কেড়ে নিয়ে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট চালাতে শুরু করে।

প্রতারণার শিকার হন এসকে সিংয়ের মা, যিনি নিজ ঘরে ছিলেন। অভিযুক্তরা তাঁর ঘর থেকে ৩ লক্ষ টাকা ও ২০ ভরি সোনার গয়না লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে, পুরো বাড়িতে লুটপাট হলেও, দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর ঘর থেকে কোনও মালামাল নেওয়া হয়নি। বরং, সেখানে গিয়ে শুধু কাগজে সই করিয়ে চলে যায় অভিযুক্তরা।

পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশি তদন্ত: এই ঘটনার পর, ব্যবসায়ীর বড় মেয়ে বাগুইআটি থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান। এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। প্রথমে, অভিযুক্তদের ব্যবহৃত গাড়ির চালক দীপক রানাকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা সিআইএসএফ জওয়ানদের মধ্যে আছেন। এরপর পুলিশ আরও গ্রেফতার করে সিআইএসএফের পাঁচজন সদস্যকে, যার মধ্যে একজন ইনস্পেক্টর এবং চারজন কনস্টেবল। তারা হলেন, লেডি কনস্টেবল লক্ষ্মী কুমারী, কনস্টেবল বিমল থাপা, কনস্টেবল জনার্দন শাহ, হেড কনস্টেবল রামু সরোজ, এবং ইনস্পেক্টর অমিত কুমার সিং।

এছাড়াও গ্রেফতার করা হয় প্রমোটার এসকে সিংয়ের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী আরতি সিং। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, আরতি সিংয়ের পরিকল্পনায় এই লুটপাট চালানো হয়েছিল। পুলিশ এখন তদন্ত করছে, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা।

অপরাধের সুত্র: এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হল, ভুয়ো আয়কর অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষকে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং এতে সিআইএসএফের সদস্যরা যে জড়িত, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে শাস্তি দেওয়া হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এলাকার বাসিন্দারা এখন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পুলিশের তদন্ত এবং গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে, এবং তারা নিশ্চিত করেছে, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনার পর, অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশ প্রশাসনকে এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।