লেকটাউনে ভুয়ো কল সেন্টারে অভিযান, ২১ প্রতারক গ্রেফতার, উদ্ধার অস্ট্রেলিয়ান নামধারী রেজিস্টার

২০২২ সাল থেকেই চালানো হচ্ছিল একটি ব্যাপক সাইবার প্রতারণার অপারেশন। অবশেষে সোমবার, ২০২৫ সালে, ওয়েস্ট বেঙ্গল সাইবার ক্রাইম উইংয়ের গোয়েন্দারা লেকটাউন থানার দক্ষিণদাড়ি এলাকায় একটি ভুয়ো কল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ২১ জন প্রতারককে গ্রেফতার করেছেন।
প্রতারকদের ফাঁদে বিদেশি নাগরিকরা
গোয়েন্দাদের অভিযানে, বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ, মোবাইল এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া, উদ্ধার হয়েছে দু’টি রেজিস্টার, যেখানে কিছু অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের নাম লেখা ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কলকাতার বুকে এটি একটি আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্র, যার লক্ষ্য ছিল অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের।
ফোন কলের মাধ্যমে প্রতারণা
গোয়েন্দারা জানান, এই চক্রের সদস্যরা একেবারে নির্দিষ্টভাবে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের টার্গেট করত। তারা প্রথমে ভারত থেকে ফোন করে অস্ট্রেলিয়ান নাম ব্যবহার করত, যাতে প্রতারিত ব্যক্তি বুঝতে না পারে যে ফোনটি ভারতে থেকে করা হয়েছে। এই ফোন কলগুলো ইন্টারনেট ভয়েস কলিং (VoIP) মাধ্যমে করা হত এবং মাঝে মাঝে ফিনল্যান্ড বা ফ্রান্সের IP অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হত, যাতে রিসিভারের জন্য এটি বিদেশি ফোন কল মনে হতো।
কলটি স্থানান্তরিত হয়ে যেত কলকাতার টালিগঞ্জে একটি আলাদা কল সেন্টারে, যেখানে গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার নামে তাদের থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত।
গ্রেফতারকৃতরা
এই অভিযানে মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে তারা সবাই ভারতীয় নাগরিক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের মধ্যে ১৭ জনকে ইতিমধ্যে আদালতে তোলা হয়েছে এবং বাকি ৪ জনকে আপাতত পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা বিদেশি নাগরিকদের প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করত।
গোয়েন্দাদের মন্তব্য
পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম উইংয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে কার্যক্রম চালাচ্ছিল এবং তাদের টার্গেট ছিল বিদেশি নাগরিকরা, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ানরা। গোয়েন্দাদের দাবি, অভিযুক্তরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন আইটি টুলস এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভারতীয় সীমার বাইরে গিয়ে প্রতারণা চালাচ্ছিল।
এই ঘটনার পর থেকে কলকাতার পুলিশ প্রশাসন এক নতুন নজরদারি শুরু করেছে এবং সাইবার প্রতারণা প্রতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অপরাধীদের শাস্তি
অভিযান সফল হলেও, এই ঘটনায় উঠে এসেছে সাইবার অপরাধীদের নতুন কৌশল। এমন ঘটনায় সাধারণ নাগরিকদের সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে গিয়েছে, বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা ও প্রতারণার ক্ষেত্রে।