‘মাতৃ বন্দনা যোজনা’ নিয়ে রেগে গেলেন সোনিয়া গান্ধী, কি বললেন তিনি?

কংগ্রেস সাংসদ এবং রাজ্যসভার সদস্য সোনিয়া গান্ধী সম্প্রতি কেন্দ্র সরকারের প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা (পিএমএমভিওয়াই)-এর তহবিল ঘাটতির বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব রয়েছে, যা তার কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সোনিয়া গান্ধী রাজ্যসভায় তাঁর বক্তৃতায় জানিয়েছেন, ২০২২-২৩ সালে গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ অন্তত একটি কিস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৩-২৪ সালে সেই হার কমে মাত্র ১২ শতাংশে পৌঁছেছে। তিনি এ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন, “এত বড় পতন কেন ঘটতে দেওয়া হলো? কেন্দ্র সরকার এর জন্য কী ব্যাখ্যা দেবে?”
তিনি আরও বলেছেন, “জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইন (এনএফএসএ) অনুযায়ী, মাতৃত্বকালীন সুবিধার পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য বছরে প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকার বাজেট প্রয়োজন। কিন্তু চলতি বছরের বাজেটে পিএমএমভিওয়াই-এর জন্য আলাদা করে কোনও তহবিল বরাদ্দের উল্লেখ নেই।” তিনি বলছেন, সরকারের বাজেটে ‘সমর্থ্য’ প্রকল্পের আওতায় পিএমএমভিওয়াই একটি উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে এর জন্য বরাদ্দ মাত্র ২,৫২১ কোটি টাকা।
এই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা, যাতে তারা প্রসবের আগে ও পরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। সোনিয়া গান্ধী জানিয়েছেন, মাতৃস্বাস্থ্য এবং শিশু মৃত্যুর হার কমানোর জন্য এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু তহবিলের অভাবে এটি কার্যকর হতে পারছে না।
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সোনিয়া গান্ধীর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার এই প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। “এনএফএসএ আইনের অধীনে, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলাদের ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না,” তিনি বলেন।
এছাড়া, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা চালু হলেও, সোনিয়া গান্ধী দাবি করেছেন যে, প্রকল্পটির জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না হওয়ায় এটি তার উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য সরকারি সহায়তা এবং চিকিৎসা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরে সোনিয়া গান্ধী বলেন, “এই প্রকল্পটি মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমাতে সাহায্য করতে পারত। কিন্তু তহবিলের অভাবে এটি কার্যকরভাবে কাজ করছে না।” তাঁর মতে, তহবিলের ঘাটতি শুধু গর্ভবতী মহিলাদেরই ক্ষতি করছে না, বরং দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের উপরও প্রভাব ফেলছে।
এই বক্তব্যে তিনি সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখেছেন, “কেন গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই প্রকল্পের তহবিল কমানো হলো? কেন সরকার তাদের প্রতি এই উদাসীনতা দেখাচ্ছে?” সোনিয়া গান্ধী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি এই বিষয়টিকে কেবল রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছেন না, বরং একটি জাতীয় সংকট হিসেবে দেখছেন।
বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সোনিয়া গান্ধীর এই মন্তব্য ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। অনেকে তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করে বলছেন, গর্ভবতী মহিলাদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। তবে, কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন যে, এটি কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে।
এই সমালোচনা সরকারের নীতি এবং বাস্তবায়নের মধ্যে অসমঞ্জসতাকে সামনে আনছে, যা কেন্দ্রীয় সরকারের আগামী দিনের নীতিতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।