ফি দিতে না পারায় ছাত্রীকে পরীক্ষা দিতে দিল না স্কুল, বিডিওর কাছে অভিযোগ মায়ের

গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় পাঁশকুড়ার জন্দড়ায় একটি দোতলা বাড়ি পুরোপুরি কাত হয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই বাড়ির এক ছোট্ট মেয়ে এখন স্কুলের নির্মম আচরণের শিকার। বন্যায় টাকা-পয়সা, গয়নাগাটি ভেসে যাওয়ায় মেয়ের স্কুলের ফি মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন বাবা। ফি বাকি থাকায় পাঁশকুড়া স্টেশন বাজার এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে আলাদা ঘরে বসিয়ে রাখে। পরিবারের অভিযোগ, এর ফলে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মেয়েটি ভেঙে পড়েছে এবং স্কুলে যেতে চায় না।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ওই বাড়ির মালিকের মেয়ে স্কুলে পড়ে। বন্যার পর থেকে বাড়ি সোজা করার কাজ চলছে। হরিয়ানার একটি সংস্থা এই কাজের জন্য প্রাথমিকভাবে ১৪ লক্ষ টাকা খরচ ধরেছে। এর বাইরেও অতিরিক্ত খরচের দাবি করেছেন বাড়ির মালিক। এই খরচ জোগাড় করতে গিয়ে মেয়ের স্কুলের ভর্তি ফি-সহ তিন মাসের ফি, মোট ১১ হাজার ৯০০ টাকা, মেটাতে পারেননি তিনি। সাত দিন আগে ছাত্রীর বাবা স্কুলে গিয়ে ৫ হাজার টাকা জমা দেন এবং বাকি টাকা ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তারপরও স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর মেয়েকে পরীক্ষার অ্যাডমিট দেয়নি।
সোমবার স্কুলে প্রথম ইউনিট টেস্টের দিন ছিল। প্রথমার্ধে ইংরেজি এবং দ্বিতীয়ার্ধে ড্রয়িং পরীক্ষা হওয়ার কথা। কিন্তু ফি বাকি থাকায় ওই ছাত্রীকে ইংরেজি পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। তাকে আলাদা ঘরে বসিয়ে রাখা হয়, যা পরিবার মানসিক নির্যাতন বলে অভিযোগ করেছে। বাড়ি ফিরে ছাত্রীটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং স্কুলে যেতে অস্বীকার করে। পরিবারের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনা তাদের জানায়নি।
ছাত্রীর বাবা বলেন, “আমার মেয়ে এই স্কুলে নার্সারি থেকে পড়ছে। কখনও ফি বাকি রাখিনি। কিন্তু বন্যায় আমাদের বাড়ি কাত হয়ে যায়। টাকা-পয়সা, সোনার গয়না সব ভেসে যায়। আমার স্ত্রী, ছেলে, মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে আছেন। বাড়ি তোলার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে স্কুলের ফি বাকি পড়ে যায়। সাত দিন আগে ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে বাকি টাকা ধাপে ধাপে দেওয়ার কথা বলি। তবু আমার মেয়েকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি।”
এই ঘটনায় ছাত্রীর মা পাঁশকুড়ার বিডিওর কাছে নালিশ জানিয়েছেন। পাঁশকুড়ার বিডিও অমিত কুমার মণ্ডল বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। শিক্ষা দপ্তর ও পুরসভাকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই ঘটনা স্কুল কর্তৃপক্ষের সংবেদনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়ে এমন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।