বিশাল আকৃতির ডঙ্কা বাজিয়ে মেঘ ডাকাচ্ছে! ঠাকুরনগর বারুনী মেলা কাঁপাবে সবচেয়ে বড় এই বাদ্যযন্ত্র!

এবারের ঠাকুরনগর বারুণী মেলা হয়ে উঠতে চলেছে একেবারে অন্যরকম, আর সেই কারণে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিশাল আকৃতির ডঙ্কা। এই ডঙ্কার আওয়াজে যেন মেঘ ডাকছে! ন’হাটা এলাকার মতুয়া দলপতি গণপতি মণ্ডল তৈরি করেছেন এমন একটি ডঙ্কা, যা দেখতে আসছে এলাকার হাজারো মানুষ। সাত ফুট উচ্চতা এবং ছ’ফুট চওড়া এই ডঙ্কার গম্ভীর আওয়াজ শোনার জন্য ইতিমধ্যেই তার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের গ্রামের মানুষরা।

এটি তৈরি করতে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন গণপতি মণ্ডল। এবারের বারুণী মেলায়, ঠাকুরনগর পৌঁছানোর জন্য এই বিশেষ ডঙ্কা নিয়ে যাবেন ন’হাটার মতুয়া ধর্মalম্বীরা। ডঙ্কাটি বাজানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে একটি বিশেষ লাঠি, যার ওজন প্রায় আড়াই কিলো থেকে তিন কিলো। এই ডঙ্কাকে বাজাতে চারজনের দল একত্রিত হতে হবে। এছাড়াও, ডঙ্কাটির স্থানান্তরের জন্য বিশেষ চাকা লাগানো ট্রলির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যায়।

গণপতি মণ্ডল জানান, এই ডঙ্কা তৈরি করতে প্রায় ছয় মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং বিশেষভাবে ডঙ্কার জন্য চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। এই বিশাল ডঙ্কার আওয়াজের কারণে এখন ন’হাটার মতুয়া ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশাল এই ডঙ্কা নিয়ে কয়েক হাজার মতুয়া ভক্ত ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন পুণ্য স্নান করার জন্য। প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার পথ পেরিয়ে তারা ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছাবেন, যেখানে সবচেয়ে বড় এই ডঙ্কা বাজিয়ে “হরি বোল ধনী” ধ্বনি তুলে সারা মেলাকে রাঙ্গিয়ে তুলবেন।

মতুয়া ধর্মalম্বীদের কাছে কাঁসর, ঘণ্টা, নিশান এবং ডঙ্কার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, এবং এত বড় ডঙ্কা তারা আগে কখনো দেখেননি। ফলে, এখন গণপতি মণ্ডলের বাড়িতে সারাদিনই ভিড় জমছে। ভক্তরা এবং এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন যে, এটি ঠাকুরনগর বারুণী মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে।

অবশেষে, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে, আর কিছু সময় পরেই বিশাল এই ডঙ্কা ঠাকুরনগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এবারের ঠাকুরনগর বারুণী মেলা যেন স্মরণীয় হয়ে উঠবে এই বিশাল ডঙ্কার আওয়াজে।