“৭ লক্ষের জমি কেনা হয়েছে ৩৭ লক্ষে”-TMC পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে পড়লো পোস্টার, নেপথ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব?

নদিয়ার পায়রাডাঙ্গায় পঞ্চায়েতে ফের জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। সাত লক্ষ টাকার জমি ৩৭ লক্ষ টাকায় কেনার অভিযোগে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান ফাল্গুনী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক পোস্টার পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে, যা আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আরও জটিল আকার নিয়েছে।
পোস্টারে ছড়িয়েছে অভিযোগ
পায়রাডাঙা রেলস্টেশন সংলগ্ন প্রিতিনগর ভূদেব স্মৃতি স্কুলের সীমানা প্রাচীরে একাধিক জায়গায় পোস্টারে ছড়িয়েছে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। পোস্টারে লেখা রয়েছে, “পঞ্চায়েত প্রধান ফাল্গুনী বিশ্বাসের শাস্তি চাই, বিজয়েন্দু বিশ্বাসের শাস্তি চাই, মা মাটি মানুষ জিন্দাবাদ।” এছাড়াও একটি পোস্টারে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “সাত লক্ষ টাকার জমি ৩৭ লক্ষ টাকায় কেনা হল কেন? পঞ্চায়েত প্রধান ফাল্গুনী বিশ্বাস জবাব দাও।” এই পোস্টারগুলি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
পঞ্চায়েত প্রধানের প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান ফাল্গুনী বিশ্বাস দাবি করেছেন, জমিটি সঠিক নিয়ম মেনে কেনা হয়েছে। তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসনের তরফে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত। সামনে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন, কেউ দলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে।” তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে উল্লেখ করেছেন।
তৃণমূলের অবস্থান
নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূল নেতা দীপক বসু এই ঘটনাকে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তৃণমূলের কর্মীরা দলের নির্দেশে চলে, এখানে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেউ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।” তবে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব পোস্টার মারার ঘটনার তদন্তে নেমেছে।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
রানাঘাট এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা কংগ্রেস কর্মী বিজয়েন্দু বিশ্বাস পোস্টারে তাঁর নাম থাকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এগুলো তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। আমি তৃণমূল করি না, তবু আমাকে জড়ানো হচ্ছে। এটা আমাকে চাপে রাখার চেষ্টা। যারা এটা করছে, তারা ভুল করছে।” তিনি এই ঘটনা থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও পোস্টারে তাঁর নাম উল্লেখ রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনৈতিক তরজা
এই ঘটনা নিয়ে পায়রাডাঙ্গায় রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। একদিকে তৃণমূল এটাকে বিরোধীদের চক্রান্ত বলে দাবি করছে, অন্যদিকে স্থানীয়রা জমির দাম নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জেলা প্রশাসন ও তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে। তবে জমি ক্রয়ের এই অভিযোগের সত্যতা এবং পোস্টারের পিছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে তদন্তের ফলাফলের দিকে সবার নজর।