জাল ওষুধের ছোবল’, বিরাট এই চক্র আটকাতে সক্রিয় হয়েছে রাজ্য “ড্রাগ কন্ট্রোল”, আপনার বাড়িতেও থাকতে পারে সাবধান

ঘুম হারাম হয়েছে সাধারণ মানুষের। ওষুধ খেয়ে সুস্থ হওয়ার বদলে চিকিৎসাই যেন হয়ে উঠছে মরণফাঁদ। গঙ্গার এপার-ওপার জুড়ে সক্রিয় জাল ওষুধের চোরাবাজার। নামীদামি কোম্পানির মোড়কে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল পিল-ট্যাবলেট, যা রোগীর শরীরে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন গুদাম থেকে গত কয়েক মাসে উদ্ধার হয়েছে কোটি টাকার জাল ওষুধ। প্রশ্ন উঠছে—এই মারণবাণিজ্যের শিকড় কোথায়? আপনার বাড়ির ওষুধের আলমারিতেও কি ঢুকে পড়েছে এই ভেজাল?

ড্রাগ কন্ট্রোলের নজরদারি: ধরা পড়ল ২০ লক্ষ টাকার জাল মাল

সম্প্রতি কলকাতার বাগড়ি মার্কেট, মেহতা বিল্ডিং এবং গিরিয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযান চালিয়ে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল উদ্ধার করেছে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সন্দেহভাজন ওষুধ। হার্ট, ব্লাড প্রেসার, অ্যান্টিবায়োটিক থেকে শুরু করে অ্যাসথমার ওষুধ—সবই পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। অভিযানের সময় ওষুধ বিক্রেতাদের QR কোড স্ক্যান করে আসল-নকল চেনার পদ্ধতিও শেখানো হয়।

হাওড়ার আমতা থেকে আগরপাড়া: জালের জাল বিস্তৃত

গত ফেব্রুয়ারিতেই হাওড়ার আমতা থেকে উদ্ধার হয়েছিল ১৭ লক্ষ টাকার ভেজাল ওষুধ। মান্না এজেন্সির মালিক বাবলু মান্নাকে গ্রেফতারের পর থেকেই তৎপরতা বাড়িয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল। এর আগে, টিটাগড়, নাগেরবাজার এবং আগরপাড়ায়ও নামী ব্র্যান্ডের নকল হার্ট মেডিসিন ধরা পড়েছিল।

কীভাবে চিনবেন জাল ওষুধ?

  • প্যাকেটের QR কোড স্ক্যান করুন (সরকারি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ভেরিফাই করুন)।
  • মুদ্রণের মান (বিভিন্ন, ব্লার বা স্পেলিং মিস্টেক থাকলে সতর্ক হোন)।
  • দাম অস্বাভাবিক কম হলে সন্দেহ করুন।
  • ওষুধের রঙ-গন্ধ-স্বাদ অস্বাভাবিক লাগলে ব্যবহার না করাই ভালো।

অভিযান চলবে, সতর্কতা জরুরি

ড্রাগ কন্ট্রোল সূত্রে জানা গেছে, জাল ওষুধের সরবরাহ শিকড় পর্যন্ত খুঁজে অভিযান জারি থাকবে। তবে, সাধারণ মানুষের সচেতনতাই এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

⚠️ সতর্কতা: শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনুন। সন্দেহ হলে ডাক্তার বা ড্রাগ ইনস্পেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

📌 আরও পড়ুন: এবিপি লাইভ-এ ব্রেকিং নিউজ বা ফেসবুক-টুইটারে #FakeMedsAlert হ্যাশট্যাগে আপডেট পেতে ফলো করুন।