বিশেষ: যেভাবে ১১,০০০ কোটির মালিক হলেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ফেল’ করা এই তরুণ

মাত্র ২১ বছর বয়সে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছেন আদিত পালিচা। জেপ্টো নামক একটি অনলাইন গ্রোসারি ডেলিভারি পরিষেবার সিইও হিসেবে তিনি ভারতীয় করপোরেট ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য গল্প রচনা করেছেন। তার শৈশবের বন্ধু কৈবল্য ভোহরার সঙ্গে মিলে শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান প্রথম বছরেই ৭ হাজার ৪০০ কোটি রুপির মূল্যায়ন অর্জন করে, যা ভারতীয় স্টার্টআপ জগতে এক বিরল কৃতিত্ব।

২০০১ সালে মুম্বাইতে জন্মগ্রহণকারী আদিতের উদ্যোক্তা মনোভাব প্রকাশ পায় মাত্র ১৭ বছর বয়সে। তিনি গো-পুল নামে একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করেন, যা ছিল তার প্রথম উদ্যোগ। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে তার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। স্ট্যানফোর্ডে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়, আর তখনই তিনি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।

আদিত তার বন্ধু কৈবল্যের সঙ্গে মিলে প্রথমে কিরানাকার্ট নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেন। কিন্তু দশ মাস চালানোর পর বাজারে ট্র্যাকশন তৈরি করতে না পারায় সেটি ব্যর্থ হয়। তবে মহামারির চ্যালেঞ্জকে উপেক্ষা করে ২০২১ সালে তিনি জেপ্টো চালু করেন। এই অনলাইন গ্রোসারি ডেলিভারি পরিষেবা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। অল্প সময়ের মধ্যে তাদের অধ্যবসায় ফল দেয়, এবং জেপ্টো লাখপতি থেকে কোটিপতি ক্লাবে পৌঁছে যায়।

২০২৩ সালে জেপ্টোর মূল্যায়ন পৌঁছে যায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় ১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই অসাধারণ সাফল্য আদিত ও কৈবল্যকে ভারতের সবচেয়ে তরুণ ধনী উদ্যোক্তাদের তালিকায় শীর্ষে নিয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি মাত্র দুই বছরের মধ্যে এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যে, এটি এখন সুইগি ইনস্টামার্ট, ব্লিঙ্কিট এবং ডানজোর মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে সমানে টক্কর দিচ্ছে।

আদিতের এই সাফল্যের গল্প শুধু তার ব্যক্তিগত কৃতিত্বই নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা। মহামারির মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহস ও দৃঢ়তা তাকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

সূত্র: ডিএনএ