খড়গপুর বিমানবন্দর প্রকল্প স্থগিত’, রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে নতুন করে তর্ক-বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুরে প্রস্তাবিত কলাইকুণ্ডা বিমানবন্দর প্রকল্পটি এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, রাজ্য সরকারের জমি সরবরাহে অনিহাই এই প্রকল্প বিলম্বিত হওয়ার মূল কারণ। এই নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে নতুন করে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা:

  • জমি সংক্রান্ত জটিলতা: প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন ৩৮.২৫ একর জমি, যা এখনও হস্তান্তর করা হয়নি
  • কেন্দ্রের অভিযোগ: রাজ্য সরকার বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও জমি হস্তান্তরে কোনো উদ্যোগ নেয়নি
  • রাজ্য সরকারের অবস্থান: এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি

কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রীর বক্তব্য:

রামমোহন নাইডু রাজ্যসভায় জানিয়েছেন:

“জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নীতির অধীনে রাজ্য সরকার জমি প্রদানে বাধ্য। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় প্রকল্পটি আটকে আছে।”

বিমানবন্দরের সম্ভাব্য সুবিধা:

✔ আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি: দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের সরাসরি যোগাযোগ
✔ অর্থনৈতিক উন্নয়ন: পর্যটন ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা
✔ কর্মসংস্থান: নির্মাণ ও পরবর্তী সময়ে হাজারো চাকরির সুযোগ

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:

  • বিজেপির তীব্র সমালোচনা: “মমতা সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছে”
  • বিজেপি নেতা অমিত মালব্য: “এটি শুধু বিমানবন্দর নয়, দক্ষিণবঙ্গের জনগণের ভবিষ্যতের সাথে খেলা”

ইতিহাসের সাক্ষী:

এই বছরই হাসিমারা, মালদা ও বালুরঘাট বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা আসে। কলাইকুণ্ডা প্রকল্পটিও সেই পথে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরবর্তী পদক্ষেপ:

  • এএআই-এর অবস্থান: জমি হস্তান্তর মিললে দ্রুত কাজ শুরু করার আশ্বাস
  • স্থানীয়দের প্রত্যাশা: দ্রুত সমাধান চাইছে খড়গপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা

#KharagpurAirport #WestBengalDevelopment #CenterStateConflict

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. অরিন্দম ঘোষের মন্তব্য: “একটি বিমানবন্দর শুধু অবকাঠামো নয়, এটি একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরের চাবিকাঠি। এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।”

📌 সতর্কতা: যদি অচিরেই জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে এই প্রকল্পটি বাতিলের তালিকায় যোগ হতে পারে, যা হবে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আরেকটি বড় ধরনের উন্নয়নমূলক সুযোগের অপচয়।