কাশ্মীরের কামান সেতু ছয় বছর পর খুলল, নেপথ্যে এক দম্পতির করুণ পরিণতি

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এক সময় সংযোগ রক্ষাকারী শান্তির প্রতীক ছিল কাশ্মীরের কামান সেতু। তবে ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর দেশীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সেতুর দ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ছয় বছর পর সেই বন্ধ সেতুর দরজা আবার খুলল, তবে এর পেছনে রয়েছে এক করুণ কাহিনি।

সূত্রের খবর, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে ভেসে আসা এক দম্পতির মৃতদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই খুলতে হল কামান সেতু। গত পাঁচ মার্চ কাশ্মীরের বাসগ্রান ও কামালকোট এলাকা থেকে এই দম্পতির দেহ উদ্ধার করে ভারতীয় পুলিশ। অনুমান করা হচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ঝিলাম নদীতে ভেসে তাদের মৃতদেহ ভারতে এসে পৌঁছেছিল। এই পরিস্থিতিতে, মানবিকতার খাতিরে ভারতীয় সেনা বারামুলার কামান সেতুর দরজা খুলে দিয়ে মৃতদেহ দুটি পাকিস্তানে ফিরিয়ে দেয়।

দীর্ঘ ১৫ দিনের উৎকণ্ঠার পর প্রিয়জনদের মরদেহ ফিরে পেয়ে স্বস্তি পেয়েছে মৃতদের পরিবার। ভারতীয় সেনার এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কামান সেতু সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের জন্য ব্যবহৃত হতো। এমনকি, দুই কাশ্মীরের মধ্যে বাণিজ্যের জন্যও ব্যবহৃত হতো এই সেতু। কিন্তু পুলওয়ামা হামলার পর নিরাপত্তার কারণে ভারতীয় সরকার এই সেতু বন্ধ করে দেয়। এবার এক দম্পতির মৃতদেহ ফেরানোর মধ্য দিয়ে সেই নিষিদ্ধ পথ কিছুক্ষণের জন্য খুলে গেল, কিন্তু তার সঙ্গে জড়িয়ে রইল এক করুণ কাহিনি।