১৮ মাস আগে শেষকৃত্য, খুনের অভিযোগে ৪ জনের জেল, তরুণী ফিরে এসে জানালো, ‘বিক্রি হয়েছিলাম’

মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌর জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। ১৮ মাস আগে যে তরুণীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিল পরিবার এবং খুনের অভিযোগে চার যুবক জেল খেটেছেন, সেই তরুণী সম্প্রতি জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন। তাঁর দাবি, তিনি মারা যাননি; বরং তাঁকে ৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। এই ১৮ মাস তিনি রাজস্থানের কোটা এলাকায় এক ব্যক্তির কাছে বন্দি ছিলেন।

পরিবারের হতবাক অবস্থা

তরুণীর বাবা জানান, ১৮ মাস আগে যে দেহটি তাঁরা শনাক্ত করেছিলেন, তা বিকৃত ছিল। চেহারা দেখে কিছু বোঝা না গেলেও হাতের ট্যাটু ও পায়ের কালো দাগ দেখে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, এটি তাঁদের মেয়ের দেহ। পরিবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে এবং খুনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্তের পর চার যুবককে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁদের জেল হয়। কিন্তু ১৮ মাস পর সেই তরুণী বাড়ি ফিরতেই পরিবার হতবাক। যে মেয়ের জন্য এতদিন চোখের জল ফেলেছেন, তাঁকে সশরীরে সামনে দেখে মা-বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে যান। তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তরুণীর বয়ান

পুলিশকে তরুণী জানান, তিনি স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। দু’দিন তার সঙ্গে থাকার পর ওই যুবক তাঁকে ৫ লক্ষ টাকায় কোটার এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়। প্রায় দেড় বছর তিনি সেখানে বন্দি ছিলেন। কোনওভাবে সুযোগ পেয়ে তিনি পালিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পরিচয়পত্র হিসেবে তিনি ভোটার ও আধার কার্ডও দেখিয়েছেন। তাঁর দুটি সন্তানও রয়েছে, যারা মাকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা।

পুলিশের তদন্ত

গান্ধীসাগর থানার স্টেশন-ইনচার্জ জানান, তরুণীর বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আপাতত তিনি পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন। তবে এই ঘটনা অনেক প্রশ্ন তুলেছে। যে দেহ শনাক্ত করা হয়েছিল, তা কার ছিল? চার যুবককে কেন খুনের অভিযোগে জেল দেওয়া হল? তরুণীকে বিক্রির ঘটনায় কারা জড়িত? পুলিশ জানিয়েছে, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চাঞ্চল্য ও প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের সদস্যরা যেমন খুশি, তেমনই হতবাক। তরুণীর ফিরে আসা শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, এটি মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের দিকেও ইঙ্গিত করছে। পুলিশের তদন্তে এই রহস্যের জট খুললে আরও তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।