দোলে মদ থেকে আয় চার কোটিরও বেশি, মদ বিক্রিতে প্রতি বছর নতুন রেকর্ড গড়ছে কোন জেলা?

‘হালকা ড্রিঙ্ক অবশ্যই করেছি। হোলি আজকে। একটা দুটো বিয়ার তো অবশ্যই খাব আমরা…’—দোলের দিন নদিয়া জেলার শান্তিপুরে নেশার ঝোঁকে বেপরোয়া ভাবে বাইক চালানোর অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে ট্র্যাফিক পুলিশ। পুলিশি জেরায় নেশা করে বাইক চালানোর কথা স্বীকার করেন তাঁরা। উপরের বক্তব্যটি আটক হওয়া এক যুবকের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বক্তব্য এখনও ভাইরাল হচ্ছে, যদিও এর সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
অন্যদিকে, ওই যুবকের সঙ্গী দাবি করেছেন, ‘লিমিটে আছি।’ কিন্তু সুরাপ্রেমীদের ‘লিমিটে থাকার’ দাবি যতই হোক, তথ্য বলছে এ বার দোলে মদ বিক্রি হয়েছে ‘লিমিটলেস’। রাজ্যে দোল উপলক্ষে মদ বিক্রি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু বিয়ার থেকেই এসেছে ৭০ কোটি টাকা।
পূর্ব মেদিনীপুরে মদ বিক্রির নতুন নজির
পূর্ব মেদিনীপুর জেলাও এ বার দোলে মদ বিক্রিতে রেকর্ড গড়েছে। দেড় দিনে জেলায় ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকারও বেশি মদ বিক্রি হয়েছে। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, বর্ষবরণের মতো উৎসবের পর এ বার দোলেও মদ বিক্রির নতুন নজির তৈরি হলো। আবগারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও এই বাড়বাড়ন্ত দেখে হতবাক।
জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরে বর্তমানে সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকানের সংখ্যা ২৮৮। গত ১৪ মার্চ দোলের দিন বেলা ২টোর পর দোকানগুলি খোলা হয়। তার আগের দিন ১৩ মার্চ থেকেই মদ কিনতে ভিড় জমতে শুরু করে। দেড় দিনে জেলায় মোট ৫০ হাজার ৭৩০ লিটার দিশি মদ, ৩৬ হাজার ৯৭০ লিটার বিলিতি মদ এবং ৪৯ হাজার ৬৫ লিটার বিয়ার বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬১ হাজার ২২৩ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে।
আবগারি দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, “গত বছরের তুলনায় এ বার দোলে অনেক বেশি মদ বিক্রি হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার বিক্রি হয়েছে।” মদের দাম ক্রমশ বাড়লেও বিক্রিতে কোনও ভাটা পড়েনি। সরকারও এই বিক্রি থেকে লক্ষ্মীলাভ করছে।
চোলাই বিরোধী অভিযান
এ দিকে, চোলাই মদের বিরুদ্ধে অভিযানও চলছে। দোলের দিন পূর্ব মেদিনীপুরে অভিযান চালিয়ে ১৩২ লিটার চোলাই উদ্ধার করেছে আবগারি দপ্তর। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দু’জনকে এবং বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে দু’টি বাইক।
সমাজে উদ্বেগ
শিক্ষায় অগ্রণী এই জেলায় মদের বাড়বাড়ন্তে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মদ ও মাদক দ্রব্য বিরোধী কমিটির আহ্বায়ক নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, “রাজ্য সরকার ঢালাও মদের লাইসেন্স দেওয়ায় সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। অবিলম্বে রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।”
দোলের মতো উৎসবে মদের এই অবাধ প্রবাহ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সমাজের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে।