আমির খান ফাঁস করলেন ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ এর পিছনের অজানা গল্প

বলিউডের মেগাস্টার আমির খান তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য আইকনিক সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলস্টোন ছিল ১৯৯২ সালের সিনেমা ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে আমির এই সিনেমার পিছনের এক অজানা গল্প শেয়ার করেছেন, যা শুনলে অনেকেই অবাক হবেন।

সিনেমার পিছনের রহস্য:
‘টু ফিল্মি’-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আমির খান জানান, ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ তৈরির সময় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁদের। সিনেমাটির প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শুটিং শেষ হওয়ার পরই একটি বড় সমস্যা দেখা দেয়। আমির বলেন, “শুটিং চলছিল উটিতে। সিনেমার কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমি তখন অন্য একটি সিনেমার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ঠিক তখনই মনসুর খান (প্রযোজক) আমাকে ফোন করেন।”

মনসুর খান আমিরকে জানান, দেবিকার চরিত্রে যাকে নেওয়া হয়েছিল, তিনি চরিত্রের জন্য মানানসই হচ্ছেন না। আমির বলেন, “মনসুর বললেন, দেবিকার চরিত্রের জন্য একজন তরুণী এবং বোকা বোকা দেখতে মেয়ের প্রয়োজন। কিন্তু যাকে নিয়েছি তিনি খুব ভালো অভিনেত্রী, তবে এই চরিত্রের জন্য তাঁকে মানাচ্ছে না।”

নতুন করে শুটিংয়ের সিদ্ধান্ত:
আমির আরও জানান, দেবিকার চরিত্রের সঙ্গে ৪০ শতাংশ, আয়েশার চরিত্রের সঙ্গে ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য চরিত্রের সঙ্গে ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দেবিকার চরিত্রে নতুন কাউকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমির পুরো সিনেমাটি নতুন করে তৈরি করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “আমি মনসুরকে বললাম, যদি দেবিকার চরিত্রে আবার অন্য কাউকে নিতেই হয়, তাহলে গোটা সিনেমাটি নতুন করে তৈরি করা উচিত।”

পূজা বেদীর আগে অন্য অভিনেত্রী:
আমিরের মতে, দেবিকার চরিত্রে প্রথমে পূজা বেদীকে নেওয়া হয়নি। অন্য একজন অভিনেত্রী এই চরিত্রে কাজ করছিলেন। কিন্তু শেষমেশ পূজা বেদীকে দেবিকার চরিত্রে নেওয়া হয় এবং সিনেমাটি নতুন করে শুটিং করা হয়।

সিনেমার সাফল্য:
১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ বলিউডের ইতিহাসে একটি মাইলস্টোন হয়ে আছে। এই সিনেমাটি আমির খানের ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। সিনেমাটির গান, কাহিনি এবং আমিরের অভিনয় দর্শকদের মনে আজও গেঁথে আছে।

শেষ কথা:
আমির খানের এই রহস্য ফাঁস করার পর ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’-এর প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। এই সিনেমা তৈরির পিছনের চ্যালেঞ্জ এবং সংগ্রামের গল্প শুনে অনেকেই আমিরের পেশাদারিত্ব এবং নিষ্ঠাকে সম্মান জানাচ্ছেন। বলিউডের ইতিহাসে এই সিনেমাটি আজও একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।